০৮ জুন ২০২৬, সোমবার, ০৭:২১:২৫ অপরাহ্ন
ঈদে ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী বেতন পাননি, সংসদে ক্ষোভ
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৮-০৬-২০২৬
ঈদে ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী বেতন পাননি, সংসদে ক্ষোভ

ঈদুল আযহার আনন্দের মাঝেও দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর জীবনে বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে। চলতি জুনে ৮ তারিখ পেরিয়ে গেলেও তারা এখনো মে মাসের বেতন-ভাতা পাননি। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অর্থকষ্টে দিন কাটছে তাদের।


সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের মাধ্যমে এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম ভূঁইয়া। তিনি এ ঘটনাকে বর্তমান সরকারকে বিতর্কিত করার লক্ষ্যে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর ‘চক্রান্ত’ বলে অভিহিত করেন এবং দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানান।


৭১ বিধিতে দেওয়া নোটিশে তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাতে হচ্ছে যে, বাংলাদেশের ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী এবার ঈদুল আজহার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আজ ৮ জুন হলেও তাদের মে মাসের বেতন দেওয়া হয়নি। বর্তমান সরকারের আমলে শিক্ষকরা ঈদের আগে বেতন পাবেন না; এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।


তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকারকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে শিক্ষকদের মধ্যে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে একটি গোষ্ঠী চক্রান্ত করছে। তারাই শিক্ষকদের বেতন প্রদান প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করেছে।


অতীতের উদাহরণ তুলে ধরে এবং শিক্ষকদের অধিকার আদায়ের ইতিহাস স্মরণ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সর্বপ্রথম এ দেশের শিক্ষকদের জাতীয় বেতন স্কেলের ৫০ শতাংশ সুবিধা প্রদান করে জাতীয়করণের সূচনা করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া শিক্ষকদের জন্য উৎসব ভাতা চালু করেন এবং ২০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি করেন।


তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের বিএনপি সরকারের সময়ের উদাহরণ দিয়ে বলেন, তখন মাসের ১৫ তারিখেও ঈদ অনুষ্ঠিত হলে তার আগেই সংশ্লিষ্ট মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হতো। কিন্তু প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার এত উন্নতির পরও কেন প্রতি মাসের বেতন সময়মতো দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, এ প্রশ্ন তিনি উত্থাপন করেন।


সংসদ সদস্য বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে শিক্ষকদের অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট সচল রাখতে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। সরকার যখন শিক্ষকদের জন্য এত বড় তহবিল বরাদ্দ দিচ্ছে, তখন প্রশাসনিক গাফিলতি বা অন্য কোনো কারণে ৬ লাখ শিক্ষকের বেতন আটকে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক।


তিনি স্পিকারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, অবিলম্বে এ ধরনের আমলাতান্ত্রিক বা চক্রান্তমূলক জটিলতা দূর করে শিক্ষকদের মে মাসের বকেয়া বেতন এবং ঈদ বোনাস দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে।


শেয়ার করুন