০৯ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৩:৫৩:৩১ অপরাহ্ন
রাজশাহীর আলোচিত দস্যুতা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ২
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৯-০৬-২০২৬
রাজশাহীর আলোচিত দস্যুতা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ২

প্রায় ২ মাস আগে রাজশাহীতে সংঘটিত একটি আলোচিত দস্যুতা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে লুণ্ঠিত অর্থের একটি অংশ এবং দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত অস্ত্রসদৃশ বস্তু উদ্ধারসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


সোমবার (৮ জুন) দুপুরে রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিবি কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান।


পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল পাবনা ডেইরি ফার্ম থেকে ২ হাজার লিটার শীতলীকৃত তরল দুধ নিয়ে রাজশাহীর সপুরা সেলস সেন্টারে আসেন একটি পিকআপ ভ্যানের চালক ও কর্মচারীরা। দুধ আনলোড শেষে সেলস সেন্টারের ম্যানেজার হেড অফিসে জমা দেয়ার জন্য তাদের কাছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ টাকা হস্তান্তর করেন।


পরে দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটের দিকে বেলপুকুর থানার উত্তর কাজীরপাড়া এলাকায় আমচত্বর-বেলপুকুর মহাসড়কে পৌঁছালে রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি মোটরসাইকেলে আসা ৩ ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা পিকআপের জানালার গ্লাস ভেঙে চালকের গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে এবং আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে নগদ অর্থ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।


ঘটনার দিনই ভুক্তভোগী মাসুদ রানা বেলপুকুর থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিন মামলার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ঘটনাটি ক্লুলেস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।


পরবর্তীতে ডিবির একটি বিশেষ টিম তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে দস্যু চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত মো. আব্দুর রহমান ডাবলু এবং সরাসরি অংশগ্রহণকারী আবু সাদাত মো. সায়েম ওরফে মিলন গ্রেপ্তার হয়।


ডিবি জানায়, গ্রেপ্তারের সময় মিলনের কাছ থেকে দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত একটি পিস্তল সদৃশ বস্তু এবং লুণ্ঠিত অর্থের ৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ডাবলুর কাছ থেকে আরও ২৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এবং ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করে ডিবি।


পুলিশের তথ্য মতে, গ্রেপ্তারকৃত মিলনের বিরুদ্ধে পূর্বে ৯টি এবং ডাবলুর বিরুদ্ধে ৬টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে দস্যুতা, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।


প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিবি কর্মকর্তারা জানান, এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন করা হবে।


এদিকে পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আবু সাদাত মিলনের বিরুদ্ধে মাদক, চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও ভূমি-সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই আইনগতভাবে নির্ধারক।

শেয়ার করুন