রাজশাহীর চারঘাটে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়েরের মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান ও একমাত্র অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৫)। দ্রুত ও পেশাদারিত্বের সাথে অভিযান পরিচালনা করে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনায় বিভিন্ন মহল থেকে র্যাবের এই তৎপরতা ভূয়সী প্রশংসা পাচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম দেব চন্দ্র দাস (২২)। সে চারঘাট উপজেলার আরজিসাদীপুর এলাকার বাসিন্দা।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে রাজশাহীতে র্যাব-৫ এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কমান্ডার মেজর মনজুরুল কবির।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বুধবার (৮ জুলাই) প্রতিবেশী ওই শিশুটিকে টেলিভিশন দেখানো এবং খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে নিজ বাড়িতে ডেকে নেয় দেব চন্দ্র দাস। সেখানে শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয়। দীর্ঘক্ষণ মেয়েকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে শিশুটির মা অভিযুক্তের বাড়ি থেকে তাকে কান্নারত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে শিশুটির কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ শুনে তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই নৃশংস ঘটনার পর বুধবার বিকেলেই ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে চারঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই আসামিকে গ্রেপ্তারে মাঠে নামে র্যাব-৫ এর একটি আভিযানিক দল। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে একই দিন দিবাগত রাত (৯ জুলাই) সাড়ে ৩টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানার ম্যাজিক লণ্ঠন স্কুল এলাকা থেকে আসামি দেব চন্দ্র দাসকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র্যাব।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৫ এর কমান্ডার মেজর মনজুরুল কবির বলেন, শিশু ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছেন। ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানো এবং অপরাধীকে দ্রুত আইনের হাতে সোপর্দ করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি তার অপরাধের দায় স্বীকার করেছে এবং তাকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে চারঘাট থানায় হস্তান্তর করা হবে। র্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে র্যাব সর্বদা তৎপর রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে রাজশাহীর পুঠিয়ায় এক এতিম শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া আরেকটি মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারেও র্যাবের চিরুনি অভিযান চলমান রয়েছে।

