১১ জুলাই ২০২৬, শনিবার, ১০:৩৫:৩৪ অপরাহ্ন
করলার দাম তলানিতে, দুর্গাপুরের কৃষকেরা দিশেহারা
রাকিবুল হোসেন শাহীন:
  • আপডেট করা হয়েছে : ১১-০৭-২০২৬
করলার দাম তলানিতে, দুর্গাপুরের কৃষকেরা দিশেহারা

রাজশাহীর দুর্গাপুরে এবার করলার বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু বাজারে দাম না থাকায় হাসি নেই কৃষকের মুখে। উৎপাদন খরচ না ওঠায় অনেকে ক্ষেতের ফলন্ত গাছ উপড়ে ফেলছেন। আবার কেউ হাট থেকে ফিরতি পথে বিক্রি না হওয়া করলা রাস্তার পাশে ফেলে দিচ্ছেন।

কৃষকদের একটাই অভিযোগ—খরচ বাড়ছে, অথচ করলার দাম দিন দিন কমছে।


কৃষকেরা হিসাব দিয়ে বলছেন, এক বিঘা জমিতে করলা চাষে সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাগে। অথচ এখন পাইকারি বাজারে করলা বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৩ থেকে ৫ টাকায়। মণপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ১২০ থেকে ২০০ টাকা। দেবীপুর গ্রামের চাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, “বিঘায় ৩০ হাজার টাকা খরচ করেছি। এখন মণ ১৫০-২০০ টাকায়ও কিনতে চায় না কেউ। এই টাকায় তো শ্রমিকের মজুরিই হয় না। পুঁজি সব লোকসান।”


গত শুক্রবার হাটকানপাড়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, স্তূপ করে রাখা করলা কিনতে কেউ আসছে না। পাইকাররা দাম বলছেন না। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলার আশরাফুল নামের এক কৃষক ক্ষোভে প্রায় ৩ মণ করলা হাটের মধ্যেই পায়ে দলে নষ্ট করেন। আশরাফুলের ভাষ্য, “দেড় বিঘা জমিতে চাষ করেছি। সার-ওষুধ-সেচ দিয়ে ৩৫ হাজার টাকা শেষ। ঘরে একটা টাকাও আসেনি। পাইকার বলছে মণ ১২০ টাকা। এই কষ্ট আর সহ্য হয় না, তাই নিজের ফসল নিজেই নষ্ট করলাম।”


কানপাড়া বাজারের কৃষক মোকলেছুর রহমান বলেন, “১ কেজি টিএসপি সারই ৫০ টাকা। আর ১ মণ করলা বিক্রি হয় দেড়শ টাকায়। এভাবে চাষ করে লাভ নেই। তাই ক্ষেতের গাছ কেটে দিয়েছি।” দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সবজির জন্য বিখ্যাত দুর্গাপুরে চলতি মৌসুমে ১৭৮ হেক্টর জমিতে করলার আবাদ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে কৃষকরা কেজি ৮০ থেকে ১০ টাকা দরেও বিক্রি করেছেন। বাজারে সরবরাহ বেশি হওয়ায় এখন দাম কমেছে। দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহারা পারভীন লাবনী বলেন, “সবজির বাজার ওঠানামা করবেই। এসময় ধৈর্য ধরে গাছের পরিচর্যা করতে হবে। কৃষকরা যাতে ন্যায্য দাম পায় সেজন্য কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলছি। আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যে দাম বাড়বে।” এদিকে কৃষকরা সরকারের কাছে দ্রুত বাজারজাতকরণ, হিমাগার ও সরাসরি বিক্রির ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। তা না হলে পরের মৌসুমে করলা চাষ ছেড়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন অনেকে।

শেয়ার করুন