সিরিয়া ও লেবানন থেকে ধীরে ধীরে সেনা সরিয়ে নিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে ট্রাম্প এই কথা বলেন। মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেন, সিরিয়ায় ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি উত্তেজনা আরও বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন, ওরা সেখানে আপনাদের চায় না। সেনা সরিয়ে নেওয়া উচিত। একই বার্তা তিনি লেবাননের ক্ষেত্রেও দেন।
জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা অঞ্চল বজায় রাখা প্রয়োজন।
নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে টিকিয়ে রাখা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়ে জনরায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচনের আর মাত্র তিন মাস বাকি। এমন পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু সিরিয়ায় ইসরায়েলের দখলে থাকা এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের মতো কোনো বড় পদক্ষেপ নেবেন, কিংবা ইতোমধ্যে যেটুকু পুনর্মোতায়েনের বিষয়ে সম্মত হয়েছেন তার বাইরে লেবাননে আরও সেনা পুনর্মোতায়েনের অনুমতি দেবেন, এমন সম্ভাবনা খুবই কম।
তবে ট্রাম্পের এই অনুরোধ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ওপর ক্রমবর্ধমান চাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এর আগে, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারীরা রোমে ইসরায়েলি ও লেবানিজ কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। কয়েক সপ্তাহ আগে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত কাঠামোগত চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়। এই চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে বর্তমানে তাদের দখলে থাকা দুটি ‘পাইলট জোন’ থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের সুযোগ করে দিতে সম্মত হয়েছে।
তবে আইডিএফ এখনো ওই দুটি এলাকা থেকে সেনা সরিয়ে নেয়নি। লেবানন সরকার চায়, এই প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হোক এবং পরবর্তী সেনা প্রত্যাহারের জন্য একটি সুস্পষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ করা হোক। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, অন্য এলাকাগুলো থেকে সেনা সরানোর আগে তারা নিশ্চিত হতে চান যে ওই ‘পাইলট জোন’ দুটিতে হিজবুল্লাহর কোনো অস্ত্র বা সামরিক অবকাঠামো অবশিষ্ট নেই। অন্যদিকে, লেবাননের পক্ষের বক্তব্য, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হওয়া উচিত।
জানা যায়, হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে তারা এই বিবরণের সত্যতাও অস্বীকার করেনি।
এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে এবং ইসরায়েল সব সময়ই যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে ইসরায়েলের বড় বন্ধু এবং শান্তির জন্য আরও বড় সংগ্রামী আর কেউ ছিলেন না।’

