১৫ অগাস্ট ২০২৬, শনিবার, ০৩:০৯:২৭ পূর্বাহ্ন
রাজশাহীর গোমস্তাপুরে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আসামী র‌্যাবের হাতে আটক
স্টাফ রিপোর্টার :
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৪-০৮-২০২৬
রাজশাহীর গোমস্তাপুরে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আসামী র‌্যাবের হাতে আটক

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গোমহমশাপুর বাঙ্গাবাড়ী বেলনাথপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোঃ রফিক এর বাড়ী হতে হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত পলাতক ২নং আসামী মোঃ ইলিয়াস (৫৫), পিতা-মৃত আরশাদ আলী, সাং-মুশরীভুজা বটতলা, থানা-ভোলাহাট, জেলা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ’কে গ্রেফতার করে। আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভোলাহাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

 


ADVERTISEMENT

ঘটনা ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুন সন্ধ্যায় ঢাকার মিরপুর-১২ (কালসী) এলাকায় বাদীর ছোট ছেলে মোঃ আব্দুর রশিদ রাজমিস্ত্রী কাজ শেষ ঢাকায় তার বাসস্থানে ফেরার পথে অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জন লোক তাকে মারপিট করে জখম করে এবং হুমকি দিয়ে বলে তোর বাবা ইলিয়াসের ছেলে দেলোয়ারকে ইতোপূর্বে মেরেছিলো তার প্রতিশোধ নিলাম। ঢাকার উক্ত ঘটনার বিষয়ে বাদীর বড় ছেলে মোঃ আশিক আলী ২নং আসামী ইলিয়াসের কাছে বিচার প্রার্থী হওয়ায় ২নং আসামী ক্ষিপ্ত হয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে একই উদ্দেশ্য ১৯ জুন সকাল আনুমানিক দশটার দিকে আসামীগণ দেশীয় অস্ত্র, ধারালো ছোরা, রড, বাঁশের লাঠি, হাসুয়া ইত্যাদিসহ দলবদ্ধ হয়ে বাদীর স্বামী মোঃ আসাদুল হক, ভাসুর মোঃ আশরাফুল হকের বাড়ীতে আক্রমণ করে বাড়ীঘর ভাংচুর ও লুটপাট শুরে করে এবং ১ হতে ১০ নং আসামীগণ বাদীর বাড়ীর শয়ন কক্ষে ড্রয়ারে থাকা নগদ ৬০,০০০/- টাকা, স্বর্ণের গহনা ও অন্যান্য মালামাল চুরি করে। অন্যান্য আসামীগণ বাদীর স্বামী এবং ভাসুর আশরাফুলের বাড়ীতে আগুন দেয়। এছাড়াও বাদীর ভাসুর নজরুল, ফুজুল, ননদ খাতিজা এবং ভাগিনা তালেব এর বাড়ীঘর ও মূল্যবান আসবাবপত্র ভাংচুর করে এবং ২টি বাড়ীর ৯টি ঘর ও ঘরের সমস্ত আসবাবপত্র ও একটি মোটরসাইকেল সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। যাতে প্রায় ১০/১২ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়।

 


বাদীর স্বামী আসাদুল, ভাসুর আশরাফুল, নজরুল, ফুজুল, ছেলে আশিক আসামীদের উক্তরূপ কাজে বাঁধা প্রদান করায় আসামীগণ তাদেরকে তাড়িয়ে বাদীর বাড়ীর পেছনে পশ্চিম পার্শ্বে দুরুল হুদার জমিতে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট শুরু করে। ২নং আসামী মোঃ ইলিয়াসের হুকুমে ১নং আসামী মোঃ রানা তার হাতে থাকা ধারালো হাসুয়া দ্বারা বাদীর স্বামীর মাথার উপর কোপ দিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। ২০নং আসামীর হাতে থাকা হাসুয়া দ্বারা বাদীর স্বামীর মুখে, চোখে, মাথায় গুরুতর রক্তাক্ত জখমসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাঁটা/ফোলা জখম করে। ২৯নং আসামীর হাতে থাকা হাসুয়া দ্বারা বাদীর ছেলে আশিককে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথার উপর কোপ মারিয়া গুরুতর কাঁটা রক্তাক্ত জখম করে। ২১নং আসামীর হাতে থাকা হাসুয়া দ্বারা হত্যার উদ্দেশ্যে বাদীর ভাসুর আশরাফুলের কপালে ও ডান পায়ে কাঁটা রক্তাক্ত জখম করে।

 

১০নং আসামীর হাতে থাকা ছোরা দ্বারা হত্যার উদ্দেশ্যে বাদীর অপর ভাসুর ফুজুলের মাথায় রক্তাক্ত গুরুতর জখম করে। ১৩, ১৪, ১৫নং আসামীগণ তাদের হাতে থাকা রড ও লাঠি দ্বারা হত্যার উদ্দেশ্যে বাদীর ভাসুর নজরুলকে এলোপাথারিভাবে আঘাত করিয়া ডান হাতের হাড় ভাঙ্গিয়া গুরুতর জখমসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। ১৯ এবং ৩৬ নং আসামীর হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দ্বারা বাদীর ননদের ছেলে মোঃ আবু তালেবকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাথারিভাবে মারপিট করিয়া বাম পায়ের হাড় ভাঙ্গিয়া গুরুতর জখম করে এবং বাদীর ভাসুরের ছেলে মোঃ ইমরান আলীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ৬ ও ৯ নং আসামীর হাতে থাকা হাসুয়াদ্বারা ডান হাত ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর কাঁটা রক্তাক্ত জখম করে। ২নং আসামীর বেয়াইয়ের শ্বশুর ও সুমুন্দি বাদীর স্বামীর বুকের উপর বসে হত্যার উদ্দেশ্যে ইট দ্বারা তার অন্ডোকোষ ও বুকে পর পর কয়েকটি আঘাত করিয়া মারাত্মক জখম করে। এ ছাড়াও এজাহারে উল্লেখিত আসামীগণ বাড়ীতে অগ্নি সংযোগ, লুটপাট, আসবাবপত্র ভাংচুর ও মারপিটে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে। জখমীদের রক্তাক্ত মুমূর্ষ অবস্থায় ঘটনাস্থল হতে সাক্ষী ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে পুলিশের সহায়তায় ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করায়। জখমীদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

 

পরে বাদীর স্বামীসহ জখমী আবু তালেব, ইমরান, ফুজুলদের রাজশাহী মেডিকলে কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশ্যে মাইক্রোবাস যোগে রওনা হয়। আনুমানিক ৪/৫ কিলোমিটার যাওয়ার পরই বাদীর স্বামীর কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে তাকে পুনরায় ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফেরত নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ১৯ জুন আড়াইটার দিকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যান্য আহতরা মুমূর্ষ অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। উল্লিখিত ঘটনায় ভিকটিম মৃত আসাদুল হক এর স্ত্রী মোসাঃ আজিনুর বেগম (৪৫), পিতা-মোঃ আজাহার আলী, গ্রাম-মুশরীভূলা বটতলা, থানা-ভোলাহাট, জেলা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৪৯ জনকে এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জনের বিরুদ্ধে লিখিত এজাহার দায়ের করেন। যার প্রেক্ষিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ভোলাহাট থানার মামলা রুজু হয়।

শেয়ার করুন