২১ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৭:১৭:৩৩ অপরাহ্ন
১৮০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছেন ট্রাম্প প্রশাসন, আবেদন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে মিত্ররা
  • আপডেট করা হয়েছে : ২১-০৫-২০২৬
১৮০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছেন ট্রাম্প প্রশাসন, আবেদন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে মিত্ররা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত ১৮০ কোটি ডলারের নতুন ক্ষতিপূরণ তহবিলকে ঘিরে আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তার সমর্থক, সাবেক সহযোগী এবং ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ব্যক্তিরা। এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।


যদিও তহবিলটির বিস্তারিত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে কারা এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন তা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্পপন্থী আইনজীবীরা বলছেন, বহু ব্যক্তি আবেদন করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ৬ জানুয়ারির হামলার আসামি, নির্বাচনের ফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টায় অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং এমন অনেকে, যারা দাবি করেন—বাইডেন প্রশাসনের আমলে তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিচারের শিকার হয়েছেন।


এর আগে, ২০২০ সালে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনকারীদের দিকে অস্ত্র তাক করে আলোচনায় আসা মিসৌরির আইনজীবী মার্ক ম্যাকক্লোস্কি জানিয়েছেন, তিনি নিজের পাশাপাশি তার মক্কেলদের পক্ষ থেকেও আবেদন করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সবাই খুবই উচ্ছ্বসিত। অনেক দিনের মধ্যে এটাই প্রথম আশার আলো।’


সেন্ট লুইসে নিজ বাড়ির সামনে স্ত্রীকে নিয়ে অস্ত্র হাতে দাঁড়ানোর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ম্যাকক্লোস্কি ও তার স্ত্রী লঘু অপরাধে দোষ স্বীকার করেছিলেন। পরে মিসৌরির গভর্নর তাকে ক্ষমা করলেও তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনার কারণে তার পেশাগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ম্যাকক্লোস্কি গত কয়েক বছরে ৬ জানুয়ারির হামলায় অভিযুক্তদের পক্ষে আইনি সহায়তা দিয়ে আসছেন। তিনি জানান, গত বছর বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি এমন একটি তহবিল গঠনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন, যা ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলায় নিহতদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ তহবিলের মতো হবে।


মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে কেউ আবেদন করতে পারে’, এমনকি ডেমোক্র্যাটরাও। তবে তহবিলের যোগ্যতা, অর্থের পরিমাণ এবং কে অর্থ বিতরণ করবে, সে বিষয়ে এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।


এই তহবিলে আবেদন করতে আগ্রহীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জর্জ স্যান্টোস। পরিচয় চুরি ও আর্থিক জালিয়াতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত স্যান্টোসের সাজা গত বছর ট্রাম্প কমিয়ে দেন। তিনি বলেন, অর্থ নয়, বরং সরকারের কাছ থেকে ‘সিলেক্টিভ ট্রায়ালের’ জন্য ক্ষমা চাইছেন তিনি।


ইলিনয়ের সাবেক গভর্নর রড ব্লাগোজেভিচও বলেছেন, তিনি এখনো আবেদন করবেন কি না, তা ঠিক করেননি। তবে তার দাবি, তার বিরুদ্ধে মামলা করা প্রসিকিউটরদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। ফ্লোরিডাভিত্তিক আইনজীবী পিটার টিকটিন বলেন, তিনি শত শত ৬ জানুয়ারির আসামির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং ধারণা করছেন, তাদের অনেকেই ক্ষতিপূরণ চাইবেন।


পিটার টিকটিনের মক্কেলদের একজন অ্যান্ড্রু টেক। তিনি অভিযোগ করেছেন, ক্যাপিটল হামলার পর আটক অবস্থায় তার সঙ্গে বাজে আচরণ করা হয়েছিল এবং কারাগারে থাকাকালে তাকে ইস্ট্রোজেন ইনজেকশন দেওয়া হয়। তাকে ২০২১ সালের ক্যাপিটল হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছিল। তবে তার বিরুদ্ধে টেক্সাসে শিশু প্রলোভনের একটি মামলাও ছিল। পরে ট্রাম্পের ক্ষমার পর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।


মঙ্গলবার কংগ্রেসে শুনানির সময় ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চকে প্রশ্ন করেন, শিশু নিপীড়নের মতো অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ব্যক্তিদের তহবিলের বাইরে রাখার কোনো নিয়ম করা হবে কি না। তিনি অ্যান্ড্রু পল জনসনের উদাহরণ দেন। ৬ জানুয়ারির মামলায় ক্ষমা পাওয়ার পর জনসনকে শিশু নিপীড়নের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি শিশুদের বলেছিলেন যে ভবিষ্যতে পাওয়া ক্ষতিপূরণের অর্থের একটি অংশ তাদের দেবেন। ব্ল্যাঞ্চ সরাসরি কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। বরং তিনি বলেন, জনসন যখন এ ধরনের দাবি করেছিলেন, তখনো কোনো তহবিল গঠন করা হয়নি।


এদিকে কলোরাডোর সাবেক রিপাবলিকান কাউন্টি ক্লার্ক টিনা পিটার্সের আইনজীবীও টিকটিন। ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল চুরি হয়েছিল, এমন প্রমাণ খুঁজতে নির্বাচনী যন্ত্রের নিরাপত্তা ভাঙার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার দায়ে পিটার্স দোষী সাব্যস্ত হন। ট্রাম্প তাকে প্রতীকীভাবে ক্ষমা করার ঘোষণা দেওয়ার পর কলোরাডোর গভর্নর জ্যারেড পোলিস তাকে ক্ষমা করেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স ইঙ্গিত দিয়েছেন, পিটার্সও এই তহবিলের আওতায় আসতে পারেন, যদিও তার মামলা ছিল অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের।


টিকটিনের ভাষ্য, তহবিল থেকে উপকৃত হতে পারেন ট্রাম্পের সাবেক সহযোগী রজার স্টোন, পিটার নাভারো এবং মার্ক মিডোসের মতো ব্যক্তিরাও, যারা ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল পাল্টে দেওয়ার প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে প্রবেশের দায়ে দণ্ডিত ইভন সেন্ট সির বলেন, তিনি ক্ষতিপূরণের আবেদন করবেন। তার দাবি, ওই ঘটনার কারণে তিনি লিফটের চালক হিসেবে কাজ হারিয়েছেন এবং এয়ারবিএনবি ব্যবহার থেকেও নিষিদ্ধ হয়েছেন।


টিকটিন আরও বলেন, কারাগারে যাওয়ার পর তার বিবাহ ভেঙে গেছে এবং বন্ধুদের অনেকেই সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন।


তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকেরা বলছেন, রাজনৈতিক সহিংসতা, নির্বাচনের ফল উল্টে দেওয়ার চেষ্টা এবং ফৌজদারি অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য সরকারি ক্ষতিপূরণ তহবিল তৈরি নজিরবিহীন এবং তা বিচারব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।


শেয়ার করুন