০৯ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার, ০১:২০:২৭ অপরাহ্ন
ঢাকা-মস্কো সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ ও সম্প্রসারণের অঙ্গীকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৯-০৬-২০২৬
ঢাকা-মস্কো সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ ও সম্প্রসারণের অঙ্গীকার

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক বিষয় এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে পারস্পরিক সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া দুই নেতা ঢাকা-মস্কো সম্পর্ক জোরদারের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।


স্থানীয় সময় সোমবার (৮ জুন) মস্কোতে দুই মন্ত্রীর বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং রাশিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলাম।


উল্লেখ্য, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বর্তমানে মস্কো সফর করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।



বৈঠকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করেন খলিলুর রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন। উভয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ২০২৭ সালে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫ বছর পূর্তি উদযাপনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।



রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।


একই সঙ্গে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। খলিলুর রহমান তার ইউএনজিএ সভাপতির প্রার্থিতার প্রতি রাশিয়ার সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


বৈঠকে শিল্প, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, কৃষি, গবেষণা ও প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, শিক্ষা, পর্যটন, পরিবহন এবং প্রতিরক্ষা খাতে বিদ্যমান সহযোগিতা পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি এসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর করার বিষয়ে একমত হন দুই মন্ত্রী।


খলিলুর রহমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশের পণ্যের জন্য রাশিয়ার বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত (ডিএফকিউএফ) প্রবেশাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশি পণ্যের নিবন্ধন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করেন তিনি।


এছাড়া বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) ও হাইটেক পার্কে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, হালকা ও ভারী প্রকৌশল শিল্প, খাদ্য ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, পেট্রোকেমিক্যাল, ইস্পাত উৎপাদন এবং তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন উদীয়মান খাতে রাশিয়ার বিনিয়োগের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ ও ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের (ইইসি) মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনে রাশিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন। বর্তমানে ইইসির সদস্য দেশ পাঁচটি— রাশিয়া, বেলারুশ, আর্মেনিয়া, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তান।


তিনি ব্রিকস ও সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সদস্যপদ অর্জনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের প্রতি রাশিয়ার সমর্থন চান। জবাবে সের্গেই ল্যাভরভ এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শেষ হওয়ায় রাশিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে খলিলুর রহমান পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্বিতীয় ইউনিট দ্রুত চালু করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।


বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে আরও জনশক্তি নিয়োগ এবং তাদের জন্য নিরাপদ কর্মসংস্থানের বিষয়েও আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে অপেক্ষমাণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তিগুলো দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এর মধ্যে পুনরায় গ্রহণ (রিডমিশন) চুক্তি এবং মানবসম্পদ সংক্রান্ত চুক্তির বিষয়ও রয়েছে।


এছাড়া রাশিয়ায় আটকে থাকা কয়েকজন বাংলাদেশিকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও রুশ সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ বিষয়ে রুশ সরকারের পূর্ণ বিবেচনার আশ্বাস দেন ল্যাভরভ।


এছাড়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা। এ সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজে বের করতে রাশিয়া সহযোগিতা করতে আগ্রহী বলে জানান ল্যাভরভ।


মস্কো সফরে আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান খলিলুর রহমান।


শেয়ার করুন