২৬ জুন ২০২৬, শুক্রবার, ০১:৪৬:১৯ পূর্বাহ্ন
মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন যুবক নিহত
স্টাফ রিপোর্টার :
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৫-০৬-২০২৬
মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন যুবক নিহত

 লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে হৃদয়বিদারক এক ঘটনায় মা ও তার তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। একই ঘটনায় স্থানীয়দের গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন সন্দেহভাজন এক যুবক। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে ঢাকায় নেওয়ার পথে আহত মেজো মেয়ের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচজনে।


নিহতরা হলেন শাহীনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। তাদের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায়। গণপিটুনিতে নিহত যুবকের নাম অন্তর মজুমদার (২৮)। তিনি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার বাসিন্দা এবং রায়পুরে ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসায়ী ছিলেন।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার দেনায়েতপুর এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর তীরবর্তী একটি ভাড়া বাসায় শাহীনুর ও তার তিন মেয়ের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা শাহীনুর, সায়মা ও শিফাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইকরাকে ঢাকায় পাঠানো হলে পথে তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, ঘটনার পর স্থানীয়দের গণপিটুনিতে আহত অন্তর মজুমদারকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।


ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে উত্তেজিত জনতার ছোড়া ইটপাটকেলে পুলিশের ছয় থেকে সাতজন সদস্য আহত হন বলে জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বামী মো. কামালের মৃত্যুর পর ২০১৯ সাল থেকে শাহীনুর বেগম সন্তানদের নিয়ে ওই বাসায় বসবাস করছিলেন। তার একমাত্র ছেলে সিফাত হোসেন স্থানীয় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন।

রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, “সিফাত সকালে কাজে এসেছিল। ঘটনার বিষয়ে সে কিছুই জানত না। খবর পাওয়ার পর থেকে সে গভীর মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে।”

লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক জানান, অন্তর মজুমদার প্রায় দেড় বছর আগে স্ত্রীসহ একই এলাকায় ভাড়া থাকতেন। সাত-আট মাস আগে তিনি বাসা ছেড়ে চলে যান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে তিনি ওই বাসায় প্রবেশ করেন।


পুলিশ সুপার আরও জানান, ঘটনার আগে রাণী নামের এক প্রতিবেশী অন্তরকে বাসাটিতে দেখে তার উপস্থিতির কারণ জানতে চান। অন্তর নিজেকে পানির পাইপ মেরামত করতে আসা ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিলেও সন্দেহ হওয়ায় ওই প্রতিবেশী কলাপসিবল গেট আটকে দিয়ে স্থানীয়দের খবর দেন। তার এই পদক্ষেপের কারণেই ঘটনাটি দ্রুত প্রকাশ্যে আসে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। এখনো এ ঘটনায় সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

শেয়ার করুন