হরমুজ প্রণালী নিজেদের ভূখণ্ড ঘোষণা করার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী ইরানের এবং এটি ইরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গরিবাবাদি বলেন, একটি পোস্ট, বিমানবাহী রণতরী, কোনো আদেশ কিংবা নির্বাচনী বক্তব্য দিয়ে হরমুজ প্রণালী দখল করা যায় না।
তিনি বলেন, ইরান হুমকিতে ভয় পায় না এবং শক্তি প্রদর্শন করেও ইরানকে ভীত করা যাবে না।
গরিবাবাদি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালী ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ইরানেরই থাকবে। ইরানের নির্দেশ ছাড়া এই প্রণালী বন্ধ বা খোলা হবে না।
এর আগে শুক্রবার রাতে ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনী পূর্ণ অবরোধ কার্যকর করছে। তিনি বলেন, ইরানকে পুরোপুরি পরাজিত করার পর খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণা করবেন তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কিছুটা বাড়তে পারে এবং এ পরিস্থিতি মেনে নিতে হবে মার্কিন নাগরিকদের।
ইরানি কর্মকর্তারা এর আগে একাধিকবার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ, নৌ অবরোধ এবং তেহরান-ওয়াশিংটনের মধ্যে জুনে হওয়া কাঠামোগত সমঝোতার শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলবে না।
ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক সমন্বয়কারী সংস্থা খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফেকারি শুক্রবার বলেন, ইরানের অনুমতি ও তদারকি ছাড়া কোনো জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।
এদিকে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে মাত্র দুটি জাহাজ চলাচল করেছে। এর মধ্যে একটি শস্যবাহী জাহাজ ইরানের জলসীমায় প্রবেশ করেছে এবং একটি খালি শুকনো পণ্যবাহী জাহাজ বিপরীত দিকে গেছে। এ ছাড়া একটি খালি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসবাহী ট্যাংকার প্রণালী দিয়ে উপসাগরের দিকে যাচ্ছিল।
তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে কোনো অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজের চলাচল দেখা যায়নি। তবে পরিচয় শনাক্তকারী যন্ত্র বন্ধ রেখে কিছু জাহাজ অজ্ঞাতসারে প্রণালী অতিক্রম করে থাকতে পারে। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন যেখানে ১৩০টির বেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করত, বর্তমান পরিস্থিতি তার তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানিও জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় তাদের দুটি জাহাজ হামলার শিকার হয়। শুক্রবার আরও একটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ওয়াম।
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকে ইরান অবরোধ হিসেবে উল্লেখ করছে। অন্যদিকে ইরানি বন্দর থেকে বের হওয়া জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিকেও ওয়াশিংটন অবরোধ হিসেবে অভিহিত করছে।
এদিকে যুদ্ধ বন্ধে জুনে হওয়া সম্ভাব্য সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শনিবার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

