১৯ অগাস্ট ২০২৬, বুধবার, ০৪:৫৮:১৯ অপরাহ্ন
এসএসসির ৯৮ হাজার ৭১০টি খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৯-০৮-২০২৬
এসএসসির ৯৮ হাজার ৭১০টি খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে

এবার এসএসসি পরীক্ষার ৯৮ হাজার ৭১০টি খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন পড়েছে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে। বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফফাত জেরীন।


ইফফাত জেরীন বলেন, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে ইংরেজি বিষয়ে। তারপরে রয়েছে গণিত। অন্য বিষয়গুলো রয়েছে। যেহেতু আবেদন পড়া বিষয়গুলো বিষয় কোর্ড আকারে রয়েছে। 


তাই এই মুহূর্তে সেভাবে বলা যাচ্ছে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর রাজশাহী বোর্ডের আট জেলার মোট ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ১২ হাজার ৮৬ জন। এরমধ্যে ১৬ হাজার ১১৩ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এসএসসি পরীক্ষার পাসের হার ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ।


শিক্ষাবোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাত বছরে এবার সর্বনিম্ন এসএসসির ফলাফল রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে। ২০২০ সালে যেখানে পাসের হার ছিল ৯০ দশমিক ৩৭ শতাংশ, সেখানে চলতি বছরে সেটি নেমে দাঁড়িয়েছে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে। শতাংশের হিসাবে ২০২০ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে পাসের হার কমেছে প্রায় ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ।


এর আগে, গত ১০ আগস্ট সকাল ১০টায় এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলেও খাতা চ্যালেঞ্জের শেষ সময় ছিল ১৭ আগস্ট পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের ৯৮ হাজার ৭১০টি খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন পড়েছে। এছাড়া ব্যবহারিকে খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন পড়েছে ২৩ হাজার ৫১৮টি। মোট ১ লাখ ২২ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী খাতা চ্যালেঞ্জ করেছেন।


১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার


গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশের পরদিন ১১ আগস্ট থেকে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু হয়। সোমবার ছিল আবেদনের শেষ দিন।


এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। মোট ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন পরীক্ষার্থী এবার অকৃতকার্য হয়েছেন।


শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আইইআইএমএস প্রকল্পের আওতায় তৈরি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পত্রের জন্য পরীক্ষার্থীদের ১৫০ টাকা করে ফি দিতে হয়েছে।


ঢাকা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি আবেদন


বোর্ডভিত্তিক হিসাবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে। এ বোর্ডের ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি পত্রের ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।


অন্যান্য বোর্ডের মধ্যে কুমিল্লায় ৩৫ হাজার ৯২৯ জন পরীক্ষার্থী ৯১ হাজার ৪৯৪টি, রাজশাহীতে ৩৯ হাজার ৭৬২ জন ৯৮ হাজার ৭১০টি, যশোরে ২৮ হাজার ৮৬২ জন ৭৪ হাজার ৭১৭টি এবং চট্টগ্রামে ৩৯ হাজার ৭৯৮ জন ১ লাখ ১৪ হাজার ৭০৬টি পত্রের ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।


বরিশালে ১৭ হাজার ২৮৩ জন পরীক্ষার্থী ৫০ হাজার ২৯৩টি, সিলেটে ২০ হাজার ৭৮২ জন ৫০ হাজার ৭১০টি এবং দিনাজপুরে ৩৭ হাজার ২৯৬ জন ৮৯ হাজার ২৮৬টি পত্রের ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।


মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজার ৩০৭ জন দাখিল পরীক্ষার্থী ৩৪ হাজার ৩০৫টি পত্র এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনালে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী ৭১ হাজার ৬৬টি পত্রের ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।


শেয়ার করুন