০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১২:৫৫:২১ অপরাহ্ন
বন্যার পর উত্তাল নদী পারাপারে নেপালে জিপলাইনে ভরসা
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৩-০৯-২০২৬
বন্যার পর উত্তাল নদী পারাপারে নেপালে জিপলাইনে ভরসা

নেপালের বন্যাকবলিত এলাকায় সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন নদী পারাপারে জিপলাইনের ওপর ভরসা করছেন স্থানীয়রা। বুধবার দেশটির নুওয়াকোট জেলার বিদুরে ত্রিশুলি নদীর ওপর অস্থায়ী এই জিপলাইন স্থাপন করা হয়। এএফপির বরাতে এ খবর প্রকাশ করেছে আরব নিউজ।


নেপাল সেনাবাহিনী প্রায় ২৫০ মিটার দীর্ঘ একটি অস্থায়ী কেবল স্থাপন করেছে। এর মাধ্যমে উত্তাল ত্রিশুলি নদী পার হচ্ছেন বন্যায় আটকে পড়া মানুষ। নদীর দুই পাড়ে অপেক্ষা করছেন অনেকে। সেনাসদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা কেবল টেনে একে একে মানুষকে নদী পার করে দিচ্ছেন।


জরুরি চিকিৎসা, ওষুধ, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহের জন্য এই জিপলাইন ব্যবহার করছেন দুর্গতরা।


৪৪ বছর বয়সী সুজন নামের এক ব্যক্তি জানান, বন্যায় তার বাড়ি ভেসে গেছে এবং তার পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে। হেলিকপ্টারে যাওয়ার সুযোগ না পেয়ে স্ত্রী, দুই সন্তান ও বৃদ্ধ মায়ের কাছে পৌঁছাতে তিনি এই নদী পারাপারের ব্যবস্থা ব্যবহার করেন। তিনি আমস্টারডামে শেফ হিসেবে কাজ করেন।



৩১ বছর বয়সী দেবী মাজিও তিন বছরের ছেলেকে নিয়ে জিপলাইনে নদী পার হন। ত্রিশুলি এলাকায় আটকা পড়ার পর তিনি স্বামী ও অন্য দুই সন্তানের কাছে নিজ গ্রামে ফিরতে চাচ্ছিলেন।


অন্যদিকে, ৪০ বছর বয়সী ভীষ্ম ভাট্টার মা তুলকুমারীর হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। পরিবারের কাছে অক্সিজেনও শেষ হয়ে গিয়েছিল। পরে জিপলাইনে করে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।


গত ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৪ হাজার ৮০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।


উদ্ধারকারীরা এখনো নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছেন। দুর্গত এলাকায় হেলিকপ্টারে খাবার, অস্থায়ী আশ্রয় ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।


নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ত্রিশুলি নদীর বিভিন্ন অংশে এ ধরনের আরও পাঁচটি অস্থায়ী কেবল সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।


শেয়ার করুন