০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শনিবার, ১২:৫১:৩৮ অপরাহ্ন
নতুন বিশ্ব মানচিত্র জাতিসংঘে অনুমোদন, যে পরিবর্তন হবে
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৫-০৯-২০২৬
নতুন বিশ্ব মানচিত্র জাতিসংঘে অনুমোদন, যে পরিবর্তন হবে

আফ্রিকা মহাদেশের প্রকৃত আয়তন আরও সঠিকভাবে তুলে ধরতে প্রচলিত বিশ্ব মানচিত্র পরিবর্তনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। শুক্রবার টোগোর উদ্যোগে উত্থাপিত ‘মানচিত্র সংশোধন’ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে ১৬৪টি দেশ। এর মধ্যে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যও রয়েছে। একমাত্র যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।



প্রস্তাবটি বাধ্যতামূলক নয়। তবে এর ফলে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যে মানচিত্র ব্যবহার করে, সেগুলোতে পরিবর্তন আসতে পারে।


ষোড়শ শতাব্দী থেকে বহুল ব্যবহৃত মারকেটর মানচিত্রে আফ্রিকাকে গ্রিনল্যান্ডের কাছাকাছি আয়তনের বলে মনে হয়। বাস্তবে আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড়। সমালোচকদের মতে, এই বিকৃত উপস্থাপনার কারণে নিরক্ষীয় অঞ্চলের দেশগুলোর উন্নয়ন প্রয়োজন ও সম্ভাবনাকে খাটো করে দেখার প্রবণতা তৈরি হয়।


ফ্লেমিশ মানচিত্রকার জেরার্ডাস মারকেটর ১৫৬৯ সালে নৌপথে ইউরোপীয় অভিযাত্রীদের সহায়তার জন্য এই মানচিত্র তৈরি করেছিলেন। গোলাকার পৃথিবীর পৃষ্ঠকে দ্বিমাত্রিক মানচিত্রে নিখুঁতভাবে তুলে ধরা সম্ভব নয় বলেই এতে বিভিন্ন অঞ্চলের আয়তনে বিকৃতি দেখা যায়। মারকেটর মানচিত্রে নিরক্ষরেখার কাছাকাছি দেশগুলো তুলনামূলক ছোট এবং মেরু অঞ্চলের দেশগুলো বড় দেখায়।


এই বিকৃতি কমাতে ২০১৮ সালে একদল মানচিত্রবিদ ‘সমান আয়তন’ ভিত্তিক একটি নতুন মানচিত্র তৈরি করেন। ফেব্রুয়ারিতে আফ্রিকান ইউনিয়নের ৫৪টি সদস্য দেশ এটি গ্রহণ করে। তাদের মতে, নতুন মানচিত্রটি বিশেষ করে আফ্রিকার আয়তনসহ সব মহাদেশের আকার আরও সঠিকভাবে তুলে ধরে।


অভিযানের সঙ্গে যুক্ত অনলাইন সংগঠন ‘মানচিত্র সংশোধন’ বলেছে, আফ্রিকার ভেতরে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, জাপান, মেক্সিকো এবং ইউরোপের বড় একটি অংশকে রাখার পরও জায়গা অবশিষ্ট থাকবে।


শুক্রবারের ভোটের আগে টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট দুসি রয়টার্সকে বলেন, ‘ন্যায্য বিশ্ব শুরু হয় একটি ন্যায্য মানচিত্র দিয়ে।’ এর আগে জাতিসংঘের এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেছিলেন, মানচিত্র কখনো নিরপেক্ষ নয়। এটি মানুষের ধারণাকে প্রভাবিত করে এবং বিশ্বে বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও মহাদেশের অবস্থান কীভাবে বোঝা হবে, তা নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।


ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারোও এই উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন। তিনি জানান, তার মন্ত্রণালয় মারকেটর মানচিত্রের ব্যবহার বন্ধ করবে। তার ভাষায়, মানচিত্র পরিবর্তন করলে বিশ্ব বদলে যায় না, তবে বিকৃত উপস্থাপনাকে সংশোধন করা সত্য প্রতিষ্ঠার একটি পদক্ষেপ।


তবে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি ইয়ারিনা ফেরেন্তসেভিচ প্রস্তাবটির সমালোচনা করেছেন। তার মতে, আন্তর্জাতিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও পারস্পরিক সম্পর্কের মতো প্রকৃত সমস্যার পরিবর্তে সাধারণ পরিষদ ষোড়শ শতাব্দীর মানচিত্র নিয়ে আলোচনা করছে।


‘আফ্রিকা নো ফিল্টার’ সংগঠনের লেরাতো মোগোয়াথলে বলেন, বিশ্ব মানচিত্রে আফ্রিকার ভুল উপস্থাপনাকে শুধু মানচিত্রগত ভুল হিসেবে দেখলে হবে না, এটি আফ্রিকা সম্পর্কে একটি বর্ণনার বিষয়ও। কেনিয়ার ভূগোলবিদ কিওকো মুয়েন্দোর মতে, মারকেটর মানচিত্র আফ্রিকার বিপুল সম্পদ, জনসংখ্যা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে পরোক্ষভাবে খাটো করে দেখিয়েছে। তার ভাষায়, মানচিত্র শুধু পথ দেখানোর মাধ্যম নয়, কোনো অঞ্চলকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে কীভাবে দেখা হবে, সেটিও প্রভাবিত করে।


শেয়ার করুন