২৫ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১২:০৮:০৬ পূর্বাহ্ন
ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে জোর, ডিএমপি কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৪-০৬-২০২৬
ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে জোর, ডিএমপি কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ

রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো ও গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা বাস্তবায়নে ট্রাফিক পুলিশের দক্ষতা বাড়াতে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


বুধবার (২৪ জুন) ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এবং গ্লোবাল রোড সেফটি পার্টনারশিপ (জিআরএসপি)। এটি ‘ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি’ (বিআইজিআরএস) কর্মসূচির আওতায় অনুষ্ঠিত হয়।


কর্মশালার উদ্বোধন করেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, ট্রাফিক আইন ও গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা বাস্তবায়নের পাশাপাশি সড়কের বাম পাশের লেন চলমান রাখা, উল্টা দিকে গাড়ি চালানো বন্ধ ও নির্দিষ্ট স্থানব্যতিত গাড়ি থামানো বন্ধ করতে ট্রাফিক পুলিশকে সক্রিয় থাকার আহবান জানান। ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে শীঘ্রই প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারি রিকশা ও ২০ বছরের অধিক পুরোনো, ফিটনেসবিহীন ও অকেজো যানবাহন বন্ধ এবং যত্রতত্র গাড়ি থামানো বন্ধ করা হবে। এতে সড়কে যানজট কমার পাশাপাশি দূর্ঘটনাও কমবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া, যানবাহনে জিপিএস সিস্টেম চালুর পরিকল্পনার কথা জানান।


তিনি আরও বলেন, ট্রাফিক আইন ও গতিসীমা মেনে গাড়ি চালানো এবং বাম লেনে ও যত্রতত্র গাড়ি না থামানোর জন্য গাড়ি চালকদের প্রতি আহবান জানান। তিনি আরো বলেন, গাড়ি চালক, মালিকসহ সড়ক ব্যবহারকারী সকল নাগরিক যদি সহায়তা করেন তাহলে শহরে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।


ডিএমপি’র যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-ঢাকা উত্তর) জনাব আ স ম শামসুর রহমান ভূঁঞা বলেন, বিআইজিআরএস এর আওতায় গ্লোবাল রোড সেফটি পার্টনারশিপ এর সহায়তায় ডিএমপি সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনভুক্ত এলাকায় বিমানবন্দর সড়ক, ৩০০ ফিট সড়ক ও লেক রোড – এ তিনটি সড়কে পাইলট আকারে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। যেখানে গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তায় অন্যান্য বিষয় নিয়মিত দেখা হবে।


মো. আবদুল ওয়াদুদ বলেন, দেশে রোড ক্র্যাশে মৃত্যু ও হতাহত কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) দেশের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহন ভেদে সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। সিটি কর্পোরেশন এলাকার মধ্যে এক্সপ্রেসওয়ে, জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে যানবাহনের সর্বোচ্চ গতি হবে ৪০ কিমি/ঘণ্টা, ও অন্যান্য অধিকাংশ সড়কে ৩০ কি.মি./ঘন্টা নির্ধারণ করেছে। শহরে মোটর সাইকেলের সর্বোচ্চ গতি ৩০ কি.মি./ঘন্টা।


বিআইজিআরএস কোঅর্ডিনেটর ও অতিরিক্ত সচিব (অব.) মো. আবদুল ওয়াদুদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডিএমপি’র অতি. পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ আনিছুর রহমান, বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএমপি’র যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-ঢাকা উত্তর) জনাব আ স ম শামসুর রহমান ভূঁঞা এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক- এডমিন, প্ল্যানিং ও রিসার্চ) মিনা মাহমুদা, জিআরএসপি’র সিনিয়র রোড পুলিশিং উপদেষ্টা পিটার জোনস্ বক্তব্য রাখেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসি’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব হোসেন, ভাইটাল স্ট্রাটেজিস এর টেকনিক্যাল এডভাইজর আমিনুল ইসলাম সুজন, ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট এর কনসালটেন্ট ফারজানা ইসলাম তমা, বিআইজিআরএস এর এনফোর্সমেন্ট কোঅর্ডিনেটর মো. গোলাম হোসেন, ট্রান্সপোর্ট কোর্ডিনেটর ইঞ্জি. রেজাউর রহমান ও সার্ভিলেন্স কোঅর্ডিনেটর ডা. তানভীর ইবনে আলী প্রমুখ।


এ প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন জিআরএসপি’র প্রশিক্ষক পিটার জোনস্। তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের রোড ক্র্যাশ প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের ভূমিকা, রোড ক্র্যাশের ক্ষেত্রে যানবাহনের উচ্চ গতি ও গতি নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি এবং রাস্তার পাশের চেকপয়েন্টগুলির নিরাপদ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদির উপর আলোচনা করেন। এ সময় তারা গতির কারণে বিভিন্ন ঝুঁকি অডিওভিজ্যুয়াল চিত্র, গ্রাফ ও বিভিন্ন দেশের গবেষণার তথ্য তুলে ধরেন।


প্রশিক্ষণে ডিএমপি’র বিভিন্ন ইউনিটের ট্রাফিক সার্জেন্ট, উপ-পরিদর্শক, পুলিশ পরিদর্শক, সহকারী/উপ-পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার ৩০ জন ও ডিএনসিসি’র ৫জন প্রকৌশলী অংশগ্রহণ করেন।


শেয়ার করুন