২৫ অগাস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার, ১১:৪১:২৫ অপরাহ্ন
আগের সরকার রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৫-০৮-২০২৬
আগের সরকার রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা বর্তমানে আরও ঘনীভূত হয়েছে। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা ঢল শুরুর পর তৎকালীন সরকার এ সমস্যা সমাধানে কোনো বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারেনি।



মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।


শামা ওবায়েদ বলেন, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা ঢল শুরুর পর তৎকালীন সরকার যথাযথভাবে উদ্যোগ নিতে পারলে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকরভাবে যুক্ত করতে পারলে চার-পাঁচ বছরের মধ্যে সমস্যার সমাধানের দিকে এগোনো সম্ভব হতো। কিন্তু সেটি হয়নি।


মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশটিতে সম্প্রতি নির্বাচন হয়েছে এবং নতুন সরকার এসেছে। একই সঙ্গে রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন পক্ষ সক্রিয় রয়েছে। সব মিলিয়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন অনেক জটিল।


তিনি বলেন, বাংলাদেশের সীমান্তে নানা ধরনের সমস্যা ও নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। মানবপাচার ও মাদক পাচারের মতো অপরাধও ঘটছে। বর্তমানে দেশে রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৩ লাখের বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিদিনই কমবেশি মানুষ আসছে এবং বছরে গড়ে প্রায় ৩০ হাজার শিশু জন্ম নিচ্ছে। ফলে সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।


রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যোগাযোগ ও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, রাখাইন, আরাকান এবং মিয়ানমারের বর্তমান সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ ও সংলাপ চলছে। এটি মূলত একটি রাজনৈতিক সমস্যা। তাই রাজনৈতিকভাবেই এর সমাধান করতে হবে।


তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন ও মালয়েশিয়া সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশকে সহযোগিতা এবং মিয়ানমারের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীও একই আশ্বাস দিয়েছেন। তুরস্কও মুসলিম বিশ্বের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের ওপর চাপ তৈরির বিষয়ে সহযোগিতার কথা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ।


আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেখানে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। ওই অধিবেশন থেকে সংকট সমাধানের বিষয়ে আরও কিছু দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।


রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে করা সমঝোতা স্মারক থেকে বের হয়ে এলে খুব বেশি লাভ হবে না বলে মনে করেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, জাতিসংঘসহ অন্যান্য অংশীজনকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে। বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলার একটি বাড়তি সুযোগ তৈরি হয়েছে। আগামী এক বছর এই সক্ষমতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ।


চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমারের ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ ও প্রস্তাবিত করিডোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগের ত্রিপক্ষীয় চুক্তির সময় তৎকালীন সরকার রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যথেষ্ট সক্রিয় ছিল না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হওয়ায় সরকারের চীনকে প্রয়োজনীয় চাপ দেওয়ার সক্ষমতাও ছিল না।



পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করছে বর্তমান সরকার। প্রধানমন্ত্রী সমঅধিকার, সম্মান ও দেশের স্বার্থ বজায় রেখে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছেন। এতে চীনসহ অন্যান্য অংশীজন বাংলাদেশের বক্তব্যকে আরও গুরুত্ব দিয়ে শুনছে।


তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপট আগের চেয়ে ভিন্ন। বাংলাদেশে এখন একটি নির্বাচিত সরকার রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের আলোচনার সক্ষমতা ও দর-কষাকষির অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে।


শেয়ার করুন