২৩ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার, ১০:৩২:০২ অপরাহ্ন
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে চট্টগ্রামে কড়া সতর্কতা
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৩-০৬-২০২৬
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে চট্টগ্রামে কড়া সতর্কতা

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামজুড়ে সম্ভাব্য নাশকতা ও জনমনে আতঙ্কের আশঙ্কায় নগরজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি রাজপথে অবস্থান নিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত সর্বত্র দেখা গেছে কঠোর নজরদারি।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত চট্টগ্রামসহ দেশের ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাও প্রদান করা হয়েছে।


সোমবার সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল বাড়ানো হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও সহকারী পুলিশ কমিশনার আমিনুর রশিদ জানান, নগরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। কোনো ধরনের নাশকতা কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ না দিতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।



তবে দুপুর পর্যন্ত নগরের কোথাও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের কোনো ঝটিকা মিছিল কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।



সম্ভাব্য নৈরাজ্য ও নাশকতা ঠেকাতে চট্টগ্রামের ৪১টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে মাঠে নেমেছে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির, এনসিপি, যুবশক্তি, নারীশক্তি ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদেরও বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় দেখা গেছে।


নগরের টাইগারপাস, জিইসি মোড়, দুই নম্বর গেট, পলিটেকনিক, বায়েজিদ, বহদ্দারহাট ও আগ্রাবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দলগুলোর নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থান নিতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও অলিগলিতেও তারা পাহারা দিচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।


চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, দলের কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি না থাকলেও ৪১টি ওয়ার্ডে নেতাকর্মীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করে সম্ভাব্য দুষ্কৃতকারীদের তৎপরতা প্রতিরোধে তারা কাজ করছেন।


অন্যদিকে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জমির উদ্দিন নাহিদের দাবি, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নামে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা রাজপথে সক্রিয় রয়েছেন।


এদিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সদরদপ্তর আগেই বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছিল। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের সম্ভাব্য অপতৎপরতার তথ্য পাওয়ার পরই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।


চট্টগ্রামের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। দিনভর সতর্ক অবস্থান, বাড়তি টহল এবং সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে চট্টগ্রামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সম্ভাব্য যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এখনো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে।


শেয়ার করুন