০৪ এপ্রিল ২০২৫, শুক্রবার, ০৩:০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন
অপারেশন সার্চ লাইটের পরিকল্পনা গোপনে চূড়ান্ত করেন টিক্কা খান
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০-০৩-২০২৫
অপারেশন সার্চ লাইটের পরিকল্পনা গোপনে চূড়ান্ত করেন টিক্কা খান

১৯৭১ সালের ২০ মার্চ। ১৫ তারিখ শুরু হওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পথে। বন্ধ হয়ে যায় সমঝোতার সমস্ত পথ। সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনা ছাড়া বাঙালির সামনে কোনো পথ খোলা ছিল না। নরঘাতক জেনারেল টিক্কা খানরা গোপন বৈঠক করে নির্বিচারে বাঙালি নিধনে অপারেশন সার্চ লাইটের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন। 


বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার ছয় জন শীর্ষ স্থানীয় সহকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সকাল ১০টায় বৈঠক শুরু হয়ে তা প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয়। বৈঠক থেকে বেরিয়ে সোজা ধানমন্ডির বাসভবনে যান বঙ্গবন্ধু। সেখানে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকরা তাকে ঘিরে ধরেন। চতুর্থ দফা বৈঠক শেষে বঙ্গবন্ধু বলেন, আলোচনা আরো হবে। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য আনা হচ্ছে-জনৈক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেন- 'বাংলাদেশের সব খবর আমার জানা আছে।' 


বাঙালি বুঝতে পারে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ইয়াহিয়া খানের আলোচনায় বসাটা ছিল সম্পূর্ণ লোক দেখানো, প্রহসন মাত্র। আলোচনার আড়ালে পাকিস্তানে স্বৈরশাসকরা বাঙালিদের স্বাধীনতার সব আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেওয়ার কৌশলে ব্যস্ত ছিল। এরই মধ্যে পাকিস্তানি সামরিক জান্তারা নির্বাচনে বাঙালি নিধনে অপারেশন সার্চ লাইটের  সব পরিকল্পনা করে ফেলে। এদিন লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুল হামিদ ও জেনারেল টিক্কা খানের এক বৈঠক থেকেই অপারেশন সার্চ লাইনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। 


একাত্তরের এ দিন ধানমন্ডির বাসভবনে সমাগত জনতার উদ্দেশে একাধিক সংক্ষিপ্ত ভাষণে বঙ্গবন্ধু দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন, মুক্তিপাগল সাড়ে সাত কোটি বাঙালির চূড়ান্ত বিজয়কে পৃথিবীর কোনো শক্তিই রুখতে পারবে না।

 

একাত্তরের ২০ মার্চ ছিল ঘটনাবহুল উত্তেজনাপূর্ণ একটি দিন। আন্দোলনে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবন্ধু সংবাদপত্রে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, 'মুক্তির লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে এ সংগ্রাম চালিয়ে যেতে আমি বাংলাদেশের জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানাই।' এদিন বঙ্গবন্ধু এক বিবৃতি দিয়ে ২৩ মার্চ লাহোর প্রস্তাব উপলক্ষ্যে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন। এ দিন বিহারি ও পাক সেনাবাহিনীর সঙ্গে বাঙালিদের সংঘর্ষ হয়েছে মিরপুর, চট্টগ্রাম, পার্বতীপুর ও সৈয়দপুরে। আহত হয় অর্ধশতাধিক। 


সারা দেশে এক উত্তপ্ত পরিবেশ বিরাজ করতে থাকে। ক্ষুব্ধ বাঙালি পথে নেমে আসে। যুদ্ধের প্রস্তুতি চলতে থাকে দেশ জুড়ে। কিন্তু তখনো পূর্ব পাকিস্তানবাসী বুঝতে পারেনি যে অতর্কিতেই তাদের ওপর চালানো হবে অপারেশন সার্চ লাইট। জেনারেল ইয়াহিয়া খান এদিন তার সামরিক উপদেষ্টা জেনারেল হামিদ খান, টিক্কা খান, জেনারেল পীরজাদা, জেনারেল ওমর প্রমুখকে নিয়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সামরিক প্রস্তুতির পূর্ণ রূপ দেন। ওদিকে প্রতিদিনই ৬ থেকে ১৭টি পর্যন্ত ফ্লাইটে পাকিস্তান থেকে সৈন্য ও যুদ্ধের রসদ নিয়ে আনা হচ্ছিল পূর্ব পাকিস্তানে। 


একাত্তরের এদিন ছাত্র ইউনিয়ন এক ভিন্ন রকমের কর্মসূচি পালন করে। তাদের উদ্যোগে গঠিত গণবাহিনীর সদস্যরা ১০ দিনের প্রশিক্ষণ শেষ করে রাজপথে ডামি রাইফেল নিয়ে শোভাযাত্রা বের করেন। ছাত্র ইউনিয়নের তৎকালীন সভাপতি নুরুল ইসলাম নাহিদের (সাবেক শিক্ষামন্ত্রী) নেতৃত্বে এ শোভাযাত্রা বের হয়। 


শেয়ার করুন