আপিল করেও প্রার্থিতা ফেরত না পেয়ে জাতির উদ্দেশে জ্বালাময়ী বক্তব্য দিয়েছিলেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা. হাবিবা বেগম ওরফে শেখ হাবিবা। তাঁর সেই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তিনি হাইকোর্টে গিয়ে প্রার্থিতা ফিরে পান।
হাইকোর্টের আদেশ পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাতে রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা হাবিবাকে প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ফুটবল প্রতীক। তিনি রাজশাহী জেলার একমাত্র নারী প্রার্থী।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হাবিবা বেগমের নামে ছয়টি মামলা হয়। তাঁকে সাতবার কারাগারে যেতে হয়েছে। তিনি পুলিশের হাতে কামড় দিয়ে আলোচিত হয়েছিলেন। এখনো তাঁর নামে দুটি মামলা আছে।
হাবিবার বাড়ি রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার সিংহমারা গ্রামে। তাঁর স্বামীর নাম মাসুদ রানা ওরফে হেলাল। হাবিবা উপজেলা কৃষক লীগের সাবেক নারীবিষয়ক সম্পাদক। তিনি এর আগে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়।
হাবিবা বলেন, সংসদ সদস্য পদে তাঁর প্রার্থিতা রিটানিং অফিসার বাতিল করেন। পরে তিনি আপিল করেন। সেখানেও প্রার্থিতা ফিরে পাননি। এরপর তিনি জাতির উদ্দেশে সাংবাদিকদের সামনে একটি ‘জ্বালাময়ী’ বক্তব্য দেন। জানান, আপিলের সময় তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা হয়নি। হাবিবা বলেন, ‘দেশবাসী জানেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। শ্রদ্ধেয় হাদি ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে গুলি খেয়ে মারাই গেলেন।’
হাবিবা দাবি করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে তিনি ভোটারদের প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন, কিন্তু তাদের নিরাপত্তার কারণে নামের তালিকা উন্মুক্ত করেননি। প্রধান বিচারপতি যদি সবার জীবনের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেন, তাহলে তিনি তালিকা উন্মুক্ত করবেন। তাঁর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও ত্রয়োদশ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার আজ বুধবার সকালে বলেন, মঙ্গলবার রাতেই হাবিবার বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ পেয়েছেন। রাতেই তাঁকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী হকার্স মার্কেটে হাবিবাকে পাওয়া যায়। তিনি লিফলেট ছাপতে এসেছেন। যতক্ষণ না লিফলেট ছাপা হচ্ছে তিনি প্রেসের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। দুপুর ১২টার দিকে তিনি লিফলেট হাতে পান। সঙ্গে সঙ্গে মার্কেটের কয়েকজন দোকানিকে দিয়ে লিফটলেট বিলি শুরু করেন। হাবিবা বলেন, এটা তাঁর নির্বাচনী এলাকা না হোক, সব মানুষের দোয়া তাঁর প্রয়োজন।
এবারের নির্বাচন কীভাবে করছেন জানতে চাইলে হাবিবা বলেন, তাঁর স্বামীর একটি জমি আছে, সেটা ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছেন। আর এক জায়গায় ছয় কাঠা জমি আছে সেটাও বন্ধক রাখার জন্য তাঁর স্বামী সেখানে গিয়েছেন। এভাবেই তিনি নির্বাচন করবেন। আর জনগণ সঙ্গে আছে। নির্বাচনী খরচ জনগণই চালাবে বলে তিনি মনে করেন।

