০৯ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার, ১২:০৬:৪৫ অপরাহ্ন
কলেজছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, অভিযুক্তদের বাড়ি ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৯-০৬-২০২৬
কলেজছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, অভিযুক্তদের বাড়ি ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

গাইবান্ধায় ফাহমিদ রুমন নামের কলেজছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।


সোমবার (৮ জুন) বিকেলে সদর উপজেলার পূর্ব পিয়ারাপুর গ্রামের রাকিবের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফাহমিদ রুমন গাইবান্ধা সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।


প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিহত রুমনের স্বজন, প্রতিবেশী এবং স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তদের বাড়ির সামনে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তাদের একটি অংশ বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করে। লাঠি, শাবল ও লোহার রড দিয়ে বাড়ির বারান্দা, ছাদ, চালা, গ্রিল ও গেট ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়।



এরপর হামলাকারীরা বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ থেকে আসবাবপত্র, থালা-বাসন ও অন্যান্য সামগ্রী বাইরে এনে রাস্তায় স্তূপ করে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে দুটি মোটরসাইকেলও পুড়ে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের ধারণ করা ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।



খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে শুরুতে উত্তেজিত জনতাকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। একই সময়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।


গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার রিফাত আল মামুন বলেন, সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই দুটি মোটরসাইকেল সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।


গাইবান্ধা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কলেজছাত্র হত্যার ঘটনার পর বিকেলে নিহতের পরিবার, স্থানীয় জনতা এবং কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। তারা বাড়ির ভেতর থেকে দুটি মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন সামগ্রী বের করে রাস্তায় এনে আগুন দেয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কাজ করেছে।


তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ময়নাতদন্ত শেষে রুমনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাদ মাগরিব জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া অভিযুক্ত পরিবারের দুই সদস্য মা ও বোন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো এজাহার দায়ের হয়নি।


এর আগে গত রোববার (৭ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের ত্রিমোহনী রেলস্টেশন এলাকার পেয়ারাপুর গ্রামে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নিহত হন ফাহমিদ রুমন। তিনি ওই গ্রামের মৃত ফারুক ইসলামের ছেলে।


শেয়ার করুন