২৩ অগাস্ট ২০২৬, রবিবার, ০৩:২৫:০১ অপরাহ্ন
হরমুজ প্রণালিকে ‘মার্কিন ভূখণ্ড’ দেখিয়ে মানচিত্র প্রকাশ ট্রাম্পের
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৩-০৮-২০২৬
হরমুজ প্রণালিকে ‘মার্কিন ভূখণ্ড’ দেখিয়ে মানচিত্র প্রকাশ ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।


রোববার (২৩ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মানচিত্রটি প্রকাশ করেন তিনি। এতে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সেটিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।


এর আগে গত ১৮ আগস্টও একই ধরনের একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণার কথা তিনি প্রথম বলেন ১৫ আগস্ট নিউইয়র্কে এক সমাবেশে।


সেদিন ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানকে পরাজিত করার পর খুব শিগগিরই তিনি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন।


হরমুজ প্রণালিকে ‘মার্কিন ভূখণ্ড’ দেখিয়ে মানচিত্র প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালিকে ‘মার্কিন ভূখণ্ড’ দেখিয়ে মানচিত্র প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প


হরমুজ নিয়ে ইরানের নিয়ন্ত্রণের দাবি


বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের রপ্তানি এই জলপথ দিয়ে হতো।


তবে ইরান বর্তমানে প্রণালিটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করছে। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই জলপথ দিয়ে চলাচল করতে হলে জাহাজগুলোকে ইরানের অনুমতি নিতে হবে এবং নির্ধারিত ফি দিতে হবে।


অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে।


‘আচরণ সংশোধন না করা পর্যন্ত হরমুজ খুলবে না’


এদিকে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করে আচরণ পরিবর্তন না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না।


শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজায়ি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তার আচরণ সংশোধন না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।’


তিনি আরও বলেন, কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ অংশ নিলে তাকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করবে তেহরান।


যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় কোনো দেশ অংশ নিলে তাদের স্বার্থে আঘাত করা হবে বলেও সতর্ক করেন রেজায়ি।


‘এখনও মার্কিন অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলা হয়নি’


রেজায়ি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত ইরান কোনো মার্কিন অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলা চালায়নি। এ পর্যন্ত হামলা কেবল সামরিক ঘাঁটিতে সীমাবদ্ধ ছিল বলেও জানান তিনি।


তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাহলে দেশটির তেল ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।


ট্রাম্প এমন কোনো পদক্ষেপ নিলে দুই দেশের সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নেবে উল্লেখ করে রেজায়ি বলেন, তখন সংঘাতের মাত্রা ‘ভূমিকম্পের মতো’ হতে পারে।


শেয়ার করুন