১৩ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৩:৪৮:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় ব্যবস্থা নেবে সরকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৩-১০-২০২৬
নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় ব্যবস্থা নেবে সরকার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।


ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ড. ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা ‘আওয়ামী সন্ত্রাস’। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সমঝোতার জন্য গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার হতে হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত একটি দল দেশ ছেড়ে যাওয়ার পরও অনুতাপের কোনো লক্ষণ দেখায়নি; বরং বিভিন্ন সংকট তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর ড. ইউনূস রাষ্ট্রের দায়িত্ব কেন নিয়েছেন, সেটিই তাঁর বিরুদ্ধে হেনস্তার চেষ্টার কারণ বলে মনে হচ্ছে। শুধু ড. ইউনূস নন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও একই ধরনের আচরণের চেষ্টা হয়েছে বলে জানান তিনি।


তথ্য উপদেষ্টা বলেন, প্রকাশ্যে সহিংসতা ও সন্ত্রাসে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছে এমন একটি দলের সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়ার প্রশ্ন আসে না। সমঝোতার ন্যূনতম সম্ভাবনা থাকলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেই সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।


ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দুই বছর পর আওয়ামী লীগের আচরণ দেখে সমঝোতার কোনো সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। ক্ষমা চাওয়া বা অনুতাপ প্রকাশের পরিবর্তে দলটি হুমকি দিচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


ড. ইউনূস, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার চেষ্টার প্রসঙ্গ টেনে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কাজ নয়, বরং ‘আওয়ামী সন্ত্রাস’। এসব ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।


এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুইলচেয়ারে বসে থাকা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দিকে এগিয়ে গিয়ে কয়েকজন উচ্চস্বরে স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় তাঁরা তাঁকে উদ্দেশ করে ‘ইউ আর আ টেরোরিস্ট’ এবং ‘হোয়াই ইউ কাম হিয়ার’ বলে চিৎকার করেন।



বিক্ষোভকারীরা ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করার অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে সঙ্গে থাকা এক সহযোগীর সহায়তায় সামনের দিকে এগিয়ে যান ড. ইউনূস।





শেয়ার করুন