১৫ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০২:১৪:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
হরমুজের কাছে ডুবল আরও ২ জাহাজ
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৫-১০-২০২৬
হরমুজের কাছে ডুবল আরও ২ জাহাজ

ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা হরমুজ প্রণালির কাছে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডুবে গেছে দুটি জাহাজ। এর মধ্যে একটি কনটেইনারবাহী জাহাজ এবং অন্যটি শুকনো পণ্যবাহী জাহাজ।


বুধবার (১৪ অক্টোবর) সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।


বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজ দুটির একটি সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘জিএফএস প্রাইড’ এবং অন্যটি অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী ‘কেপ দাও’। জিএফএস প্রাইডের ২১ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কেপ দাওয়ে হামলার ঘটনায় একজন নাবিক নিহত হন।


সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি (এমপিএ) জানায়, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় জিএফএস প্রাইড ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। পরে এটি ডুবে যায়। জাহাজটির সব নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি।




জাতিসংঘের নৌপরিবহন সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল কেপ দাও। পরে জাহাজটি হরমুজ প্রণালির কাছে ডুবে যায়। হামলার পরপরই এর অন্য নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।


আইএমওর জাহাজ দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর জিএফএস প্রাইড ও কেপ দাও হলো ডুবে যাওয়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় জাহাজ।


হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে সিঙ্গাপুরের এমপিএ। সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।


সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান মারিস্কস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি অব্যাহত রয়েছে। এ ঝুঁকি শুধু তেলবাহী ট্যাংকারে সীমাবদ্ধ নয়; কনটেইনারবাহী জাহাজ ও শুকনো পণ্যবাহী জাহাজও গুরুতর ক্ষতির শিকার হচ্ছে।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের চেষ্টা করছে ইরান। দেশটির বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার জবাবে হামলা বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে তেহরান। সাম্প্রতিক সময়ে জলপথটিতে জাহাজ চলাচল ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।




শেয়ার করুন