২০ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার, ০২:১০:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
‘ভারত বাংলাদেশ নয়, আবার ফ্রান্সও নয়’
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৯-১০-২০২৬
‘ভারত বাংলাদেশ নয়, আবার ফ্রান্সও নয়’

ভারত ও বাংলাদেশের পরিস্থিতির তুলনা এবং ‘শাসন পরিবর্তন’ বা সরকার পতনের বিতর্কে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা শশী থারুর। তিনি বলেছেন, ভারত বাংলাদেশ নয়, আবার ফ্রান্সও নয়। তার মতে, এসব দেশের সঙ্গে তুলনা করে ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা বিশেষ প্রাসঙ্গিক নয়।


এর আগে বিরোধী কংগ্রেস এবং জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) ২৯ বছর বয়সি শিক্ষার্থী আন্দোলনকর্মী নেহা বোরার সমালোচনা করেন রিজিজু। ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার সমালোচনা করতে গিয়ে নেহা ‘শাসন পরিবর্তন’-এর কথা বলেছিলেন। তার অভিযোগ ছিল, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন নেতার বক্তব্যের ভিডিও সংকলন প্রকাশ করে রিজিজু লেখেন, ‘এই মানুষগুলোর দিকে তাকান, যারা শাসন পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। মনোযোগ দিয়ে শুনুন—ভারত বাংলাদেশ নয়।’


তিনি আরও লেখেন, ‘ভারতের তরুণেরা বোকা নন। তারা ভারতকে গড়ে তুলবেন, ধ্বংস করবেন না। প্রকৃত ভারতীয় তরুণেরা পদক জিতছেন, দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্ভাবন, নতুন উদ্যোগ ও প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং সাংস্কৃতিক আইকনে পরিণত হচ্ছেন।’


ভিডিওতে নেহা বোরা ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণসহ কয়েকজনের বক্তব্যের অংশ ছিল। বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে তারা বিভিন্ন সময়ে ‘শাসন পরিবর্তন’-এর কথা বলেছিলেন।


বিতর্কে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে থারুর কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মন্তব্যের গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেন। সাবেক এই কূটনীতিক বলেন, ‘আমার মনে হয়, ভারত বাংলাদেশ নয়, ভারত ফ্রান্সও নয়। এসব তুলনাকে আমি বিশেষ প্রাসঙ্গিক বলে মনে করি না। ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অন্যান্য ইস্যুতে যে দাঙ্গা হয়েছে, সেখানে বাস ও পুলিশ স্টেশনে আগুন দেওয়ার মতো কোনো সহিংসতাকেই আমরা কখনো সমর্থন করব না।’


থারুর বলেন, বিরোধী দল কেবল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে বিশ্বাস করে এবং তা সমর্থন করে।


তিনি বলেন, ‘বৃহত্তর বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে গেলে ‘শাসন পরিবর্তন’-এর মতো একটি শব্দবন্ধকে বিকৃত করার কোনো অর্থ নেই। আমরা যা চাইছি, তা হলো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। বর্তমানে উদ্বেগের বিষয় হলো, সম্পূর্ণ সমস্যাজনক, অনিয়মপূর্ণ এবং আংশিকভাবে বেআইনি একটি প্রক্রিয়ার ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই আমরা এই প্রক্রিয়া বাতিল করে আগের অবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি। এটি একটি সাংবিধানিক বিষয়। কোনো সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা নয়।’


‘শাসন পরিবর্তন’ নিয়ে বিরোধীদের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিজেপির একাধিক নেতা। অন্যদিকে, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৩ কোটির বেশি ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ করছে কংগ্রেস, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং বাম দলগুলো।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধী দলগুলোর সমর্থন পাওয়া সিজেপির নেতৃত্বে রয়েছেন বিদেশে শিক্ষিত জনসংযোগ বিষয়ে স্নাতক এক ব্যক্তি। দলটির আরও কয়েকজন সদস্য প্রকাশ্যে কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এর আগে তারা নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ করেছিলেন। ওই ঘটনার পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।




শেয়ার করুন