০১ অক্টোবর ২০২২, শনিবার, ০৪:২২:৫৮ পূর্বাহ্ন
নির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৫-০৬-২০২২
নির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচন ঘিরে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বলছেন-নির্বাচনে নিরাপত্তা জোরদার করতে তাদের পক্ষ থেকে যত ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার সব নেওয়া হয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগরীর প্রতিটি এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সাদা পোশাকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা তৎপর। নগরীতে ৭৫টি জায়গায় বসানো হয়েছে তল্লাশিচৌকি।

২৭টি ওয়ার্ডে ২৭ জন ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। পাশাপাশি ভোটের মাঠে কাজ করছেন তিন হাজার ৬০৮ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। র‌্যাব, পুলিশ এবং বিজিবির পৃথক পৃথক বিশেষ টিম নগরীর প্রতিটি অলিগলি মনিটরিং করছে।

এদিকে নির্বাচনের কয়েক ঘণ্টা আগে ভোট কিনতে যাওয়ার অভিযোগে টাকাসহ এক যুবককে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ড পাথুড়িয়াপাড়া থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক যুবকের নাম মো. ফারুক (৩১)। তিনি কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার গোলাবাড়ী এলাকার ছাদেক মিয়ার ছেলে। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তার কাছ থেকে প্রায় ২০০ ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি ও নগদ ৫৮ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। তাকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে সরঞ্জাম বুঝে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় ভোটকেন্দ্রে চলে গেছেন।

নগরবাসীর বহুল প্রত্যাশিত এ ভোটে প্রচারের শুরুতে উৎসবমুখর পরিবেশন ছিল। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত ঘটেনি বড় সংঘর্ষের কোনো ঘটনাও। তবে প্রার্থীদের পরস্পরবিরোধী কথার লড়াইয়ে পরিবেশ অনেকটা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

এরই মাঝে স্থানীয় সংসদ-সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের এলাকায় অবস্থান প্রার্থী, ভোটার ও সাধারণ মানুষদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আরও বাড়িয়েছে।

ভোটাররা বলছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তারা নগরপিতা নির্বাচন করতে চান। এক্ষেত্রে তাদের দাবি, বহিরাগত, কালোটাকা এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

আলোচিত ৩ হত্যা মামলার ৪ আসামি কাউন্সিলর প্রার্থী : কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আলোচিত ৩ হত্যা মামলার ৪ আসামি কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন।

নগরীর চাঞ্চল্যকর যুবলীগ নেতা জিল্লুর রহমান ওরফে জিলানী হত্যা, ছাত্রলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন হত্যা এবং ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন হত্যা মামলার ৪ আসামি এবারও কুসিক নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

দাপুটে ওই ৪ প্রার্থী আলোচিত এসব হত্যা মামলায় ইতঃপূর্বে কারাবরণ করে জামিনে মুক্ত হয়ে ভোটে অংশগ্রহণ করছেন। এদিকে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারসহ নানা কারণে বিতর্কিত এসব প্রার্থী সাধারণ ভোটারদের কাছে আতঙ্ক বলে জানান স্থানীয়রা।

ভোটের দিন আলোচিত-সমালোচিত এসব প্রার্থী প্রভাব বিস্তার করতে পারেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া কেন্দ্রে কেন্দ্রে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের প্রভাব এবং দুর্ধর্ষ কাউন্সিলর প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের আধিপত্যের ভয়ে অনেক ভোটার কেন্দ্রে যেতে অনীহা প্রকাশ করেছেন।

কোনো কোনো কেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে যুদ্ধংদেহী মনোভাবের কারণে ওইসব এলাকায় অনেকটা ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে।

সবার সহযোগিতায় সুন্দর নির্বাচনের আশা : রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরী জানান, সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি, ভোটাররা কোনো ভয় বা সংকোচ ছাড়া ভোট দিতে আসবেন।

প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরাসহ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে। প্রার্থীরা যেভাবে আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালিয়েছেন তেমনি নির্বাচনের দিনও সে শৃঙ্খলা বজায় রাখবে। আমি আশাবাদী, সবার সহযোগিতায় একটি সুন্দর নির্বাচন হবে।

কেন্দ্রে পৌঁছেছে ইভিএমসহ ভোটের সরঞ্জাম : সকাল থেকেই প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা কুসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে সরঞ্জাম বুঝে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় ভোটকেন্দ্রে চলে গেছেন।

কুমিল্লা জিলা স্কুলের শহিদ আবু জাহিদ মিলনায়তন থেকে ২৭টি ওয়ার্ডের ১০৫টি কেন্দ্রে পাঠানো হয় এ নির্বাচনি সরঞ্জাম। ১০৫টি কেন্দ্রে ভোটকক্ষ রয়েছে ৬৪০টি। রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরী জানান, সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন।

প্রতিটি কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, সবার সহযোগিতায় একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। কোথাও কোনো অনিয়ম হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, কোনো পক্ষকেই বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন, আমার বিশ্বাস-সবার সহযোগিতায় আমরা একটি সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারব।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা থাকবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট ও ১২ প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়াও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোক সহায়তা করতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন।

জেলা পুলিশের ব্রিফিং : নির্বাচন সুষ্ঠু করতে কুমিল্লার ভাষাসৈনিক শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে নির্বাচন উপলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় পুলিশ সুপার ফারুক আহম্মেদ বলেন, নির্বাচনে নিরাপত্তা জোরদার করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে যত ধরনের ব্যবস্থা দরকার সব নেওয়া হয়েছে। নগরীর অন্তত ৭৫টি জায়গায় তল্লাশিচৌকি বসানো হয়েছে। তল্লাশি চালিয়ে চেকপোস্টে একজনকে আটক করা হয়েছে। তার কাছে একটি ছুরি পাওয়া গেছে।

র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লার অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন বলেন, ভোটকেন্দ্রের আশপাশে কোনো বিশৃঙ্খলাকারী পেলে আটক করা হবে। র‌্যাবের অন্তত ২৭টিম কাজ করছে। জরুরি প্রয়োজনে আরও কয়েকটি টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

মক ভোটিংয়ে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি : সোমবার ও মঙ্গলবার ভোটকেন্দ্রগুলোতে প্রশিক্ষণের অংশ হিসাবে মক ভোটিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি থমথমে হওয়ায় এতে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। ভোটারদের মধ্যে অনেকটাই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা লক্ষ্য করা গেছে। এতে সীমিত সংখ্যক ভোটারই মক ভোটিংয়ে অংশগ্রহণ করেছেন।

শেয়ার করুন