২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার, ০৯:৩৬:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করলেন অভিযোগকারী, শিক্ষক সহকর্মীদের বিরুদ্ধে চক্রান্তের দাবি
স্টাফ রিপোর্টার :
  • আপডেট করা হয়েছে : ২১-০৯-২০২৬
রাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করলেন অভিযোগকারী, শিক্ষক সহকর্মীদের বিরুদ্ধে চক্রান্তের দাবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভেটেরিনারি এন্ড অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান স্যারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও প্ররোচিত দাবি করে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন অভিযোগকারী নারী মোছা: নাছিমা খাতুন একই সাথে উক্ত বিভাগের কতিপয় শিক্ষকের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচণা এবং ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তিনি এই অভিযোগ করেছিলেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর লিখিত আবেদনে ও ভিডিও বার্তায় চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন তিনি।


বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর দেওয়া লিখিত আবেদন এবং ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নাছিমা খাতুন জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক ড. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান একজন সৎ, নির্দোষ ও পরোপকারী মানুষ। তার মেয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত থাকায় ময়মনসিংহ জেলা সমিতির মাধ্যমে একই এলাকার মানুষ হিসেবে চেয়ারম্যান স্যারের সাথে তার পরিচয় হয়। বিধবা হওয়ার কারণে মানবিক দিক বিবেচনা করে তার মেয়ের পড়াশোনার জন্য ওই শিক্ষক তাকে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সহযোগিতা করে আসছিলেন।


ঘটনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে তিনি জানান, সম্প্রতি টাকা-পয়সা লেনদেন সংক্রান্ত তর্কাতর্কির একপর্যায়ে শিক্ষক তাকে একটি চড় মারেন এবং পরবর্তীতে তার সাথে সকল যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এতে ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হয়ে বিষয়টির মীমাংসার জন্য তিনি রহমতুন্নেছা হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ইসমত আরা বেগমের কাছে যান। কিন্তু বিভাগের শিক্ষকদের পূর্বশত্রুতা ও ব্যক্তিগত আক্রোশের কথা তার জানা ছিল না। শিক্ষকরা তার সরলতার সুযোগ নিয়ে পুরো ঘটনাকে ভিন্ন খাতে মোড় নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।


লিখিত আবেদনে চারজন শিক্ষকের সরাসরি উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে নাছিমা খাতুন জানান, গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রহমতুন্নেছা হলের প্রভোস্ট অফিসে তাকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন:

১. প্রফেসর ইসমত আরা বেগম (ভেটেরিনারি এন্ড অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগ ও প্রভোস্ট, রহমতুন্নেছা হল) ২. প্রফেসর ড. মোইজুর রহমান (সাবেক চেয়ারম্যান, ভেটেরিনারি এন্ড অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগ) ৩. প্রফেসর এস.এম. কামরুজ্জামান (প্রশাসক, জনসংযোগ দপ্তর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়)

৪. প্রফেসর শরিফুল ইসলাম (ভেটেরিনারি এন্ড অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগ) তিনি অভিযোগ করেন, সেখানে প্রফেসর ড. মোইজুর রহমান নিজ হাতে একটি কাগজ লিখে তার সামনে ধরিয়ে দেন। পরে তা না বুঝে ইসমত আরা ম্যাডামের প্ররোচনায় হুবহু লিখে প্রক্টর অফিসে জমা দেন। এমনকি তদন্ত ও ৫০ হাজার টাকা কাবিনে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে তাকে ওই কাগজে স্বাক্ষর করানো হয়।


ঘটনার সত্যতা পরিষ্কার করে তিনি বলেন, "চেয়ারম্যান স্যারের সাথে একদিনের জন্যও আমার কোনো ধরনের অনৈতিক বা অবৈধ সম্পর্ক ছিল না। উনি কোনোদিন আমার বাসায় যাননি, আমিও উনার বাসায় যাইনি। পরবর্তীতে বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে আমাদের দুই পরিবার ও স্যারের চরম মানহানি ঘটে। ভুল বুঝতে পেরে আমি নিজ দায়িত্বে ভিসি স্যার ও প্রক্টরের কাছে গিয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছি।


অভিযোগ প্রত্যাহারের পরেও হয়রানির বিষয়ে তিনি বলেন, প্রশাসন বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নিলেও প্রক্টর দপ্তরের ও সংশ্লিষ্ট কিছু শিক্ষক (যেমন দিলারা ম্যাডাম) এখনো আমার ওপর অহেতুক চাপ সৃষ্টি করছেন। মূল অভিযোগকারী আমি নিজেই যেখানে অভিযোগ প্রত্যাহার করেছি, সেখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চক্রান্ত চালিয়ে আমার পরিবারকে সামাজিক হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে।


উপাচার্য বরাবর পেশ করা আবেদনের শেষ অংশে তিনি তাকে প্ররোচিত করে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করানোর মাধ্যমে মানহানি ঘটানো উক্ত চার শিক্ষকসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

শেয়ার করুন