০৭ অক্টোবর ২০২২, শুক্রবার, ৬:৩৩:১৯ অপরাহ্ন
বিপজ্জনক পণ্য নিয়ে কঠোর অবস্থানে চট্টগ্রাম বন্দর
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৮-০৬-২০২২
বিপজ্জনক পণ্য নিয়ে কঠোর অবস্থানে চট্টগ্রাম বন্দর

সীতাকুন্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের পর বিপজ্জনক পণ্য ডেলিভারি নিয়ে কঠোর অবস্থানে গেছে চট্টগ্রাম বন্দর। এ-জাতীয় পণ্য আমদানির পর বন্দর থেকে তা দ্রুত ডেলিভারি নিতে আমদানিকারকসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্ধারিত চার দিনের মধ্যে ডেলিভারি না নিলে পঞ্চম দিন থেকে দ্বিগুণ হারে জরিমানা আদায় করা হবে বলে জানিয়েছে বন্দরের সংশ্লিষ্ট সূত্র।



এদিকে, আগামী আগস্টে বন্দরের নিরাপত্তা দেখতে মার্কিন কোস্টগার্ড দল বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। বন্দর ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি ডিপোগুলোতে আইএসপিএস (জাহাজ ও বন্দর স্থাপনার নিরাপত্তাঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম) কোড ঠিকমতো মানা হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখবে তারা। মার্কিন কোস্টগার্ড দল আসার আগেই বিপজ্জনক পণ্য হ্যান্ডলিং ব্যবস্থাপনা উন্নত করাসহ আইএসপিএস কোড অনুযায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।


৪ জুন চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে দেশি-বিদেশি যৌথ মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ড ও ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৪৯ জনের প্রাণহানি ঘটে। আহত হয়েছেন দুই শতাধিক। ধারণা করা হচ্ছে, ডিপোতে রক্ষিত হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড নামের রাসায়নিক বোঝাই কনটেইনার থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে এ নিয়ে গঠিত সরকারি তদন্ত কমিটি কারণ উদঘাটন ও ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণে এখনো কাজ করছে। এ ঘটনায় জানমালের ক্ষতি ছাড়াও দেশের পণ্য রপ্তানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বহির্বিশ্বে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে বলে বিভিন্ন মহল থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের পরপরই নড়েচড়ে বসে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। তারা বছরের পর বছর বন্দরের বিভিন্ন শেডে পড়ে থাকা বিপুল পরিমাণ আমদানি বিপজ্জনক পণ্য (রাসায়নিক ও দাহ্য পদার্থ) দ্রুত নিলামে বিক্রি অথবা ধ্বংস করতে তাগিদ দেয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে। এরই মধ্যে কাস্টমস কিছু রাসায়নিক স্পট নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে দিয়েছে। বাকি পণ্যগুলোও একই প্রক্রিয়ায় বিক্রি বা ধ্বংসের প্রক্রিয়া চলছে।


দ্য ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ডেনজারাস গুডস (আইএমডিজি)-এর আওতায় বিপজ্জনক পণ্যের কোড নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত গ্যাস, পেট্রোলিয়াম, বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক ও দাহ্য পদার্থ এই তালিকায় রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, সালফার, ক্যালসিয়াম কার্বনেটসহ বিভন্ন ধরনের রাসায়নিক আমদানি রপ্তানি হয়।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিএম ডেপো ট্র্যাজেডির পর বিপজ্জনক পণ্য আমদানি-রপ্তানি নিয়ে ১৩ জুন বন্দর কর্তৃক্ষ বন্দর ব্যবহরকারী বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে। বন্দর ভবনের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিপজ্জনক পণ্য নিয়ে বন্দরের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে-আমদানি করা সব বিপজ্জনক পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে অবতরণের পর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ডেলিভারি নেওয়া, এফবিসিসিআই, বিজিএমইএসহ সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্ট ও চেম্বার অব কমার্সগুলো দ্রুত ডেলিভারির জন্য তাদের সদস্য আমদানিকারকদের প্রতিনিয়ত তাগিদ দেওয়া, আইএমডিজি কোড বা নীতিমালা মেনে চলা। এ ছাড়া কোনো ক্ষতিগ্রস্ত কনটেইনারে বিপজ্জনক পণ্য পরিবহণ না করা। এ ধরনের পণ্য বন্দরে আসার ২৪ ঘণ্টা আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অনুমতি নিশ্চিত করা, বিপজ্জনক পণ্যের ইয়ার্ড ও শেডসমূহ চব্বিশ ঘণ্টা সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং করারও সুপারিশ করা হয়।


২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার পর জাতিসংঘের অধীন আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থা বিভিন্ন বন্দরের নিরাপত্তাসংক্রান্ত ব্যবস্থা বা আইএসপিএস কোড প্রণয়ন করে।

শেয়ার করুন