৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, ১১:৩১:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
‘সর্বহারা’ পরিচয়ে রাবির ৫ শিক্ষককে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩০-০৯-২০২৬
‘সর্বহারা’ পরিচয়ে রাবির ৫ শিক্ষককে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি

রাজশাহীতে ‘সর্বহারা’ পরিচয়ে ফোন করে কয়েকজন শিক্ষক, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে ৬ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক শাহরিয়ার হোসেন মতিহার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।


হুমকি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন, গণিত বিভাগের অধ্যাপক গৌর চন্দ্র পাল, সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস, নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক শাহরিয়ার হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখার কম্পিউটার অপারেশন ম্যানেজার গৌতম লাহিড়ী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক আশুতোষ ব্যানার্জি এবং রাজশাহীর এক প্রকৌশলী ও চিকিৎসক আবুল হাসান।


ভুক্তভোগী শিক্ষক শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার কাছে পরপর দুইবার ফোন আসে। প্রথমবার আমি ব্যস্ত থাকায় কথা বলতে পারিনি। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তারা আবার ফোন দেয়। তখন তাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা হয়। একপর্যায়ে জেলে থাকা কর্মীদের জামিনের খরচের কথা বলে তারা আমার কাছে টাকা দাবি করে।’


তিনি আরও বলেন, ‘পরে নিরাপত্তার জন্য আমি মতিহার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি। একই সঙ্গে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রক্টরকে জানাই। পরে পুলিশের মাধ্যমে নম্বরটি ট্র্যাক করে জানতে পারি, কলটি মাদারীপুর থেকে করা হয়েছে। যে সিম নম্বর থেকে কলটি করা হয়েছে, সেটি মুফতি রেজাউল করিম নামে এক ব্যক্তির পরিচয়ে নিবন্ধিত।’


আরেক ভুক্তভোগী ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমাকে ফোন করে সর্বহারা পরিচয় দিলে আমি বেশি কথা না বাড়িয়ে ফোন কেটে দিই। পরে জানতে পারি, এমন কল আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও অনেক শিক্ষকের কাছেই এসেছে।’


এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরজুন বলেন, ‘আমরা অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। আশা করছি, দ্রুতই সমস্যাটির সমাধান হবে।’


রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুর কবির বলেন, একজনের করা সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে অন্য হুমকির ঘটনাগুলোও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এখন পর্যন্ত হুমকিদাতাদের ব্যবহৃত চারটি মোবাইল নম্বর শনাক্ত করা হয়েছে। নম্বরগুলো ব্যবহার করে মাদারীপুর এলাকা থেকে ফোন করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।


পুলিশের ধারণা, এটি একটি প্রতারক চক্রের কাজ। বিষয়টি তদন্ত করে হুমকিদাতাদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

শেয়ার করুন