প্রতি বছর ঈদের সময় ট্রেন, বাস, লঞ্চের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করতে গিয়ে ঘরেফেরা মানুষের যে পরিমাণ ভোগান্তিতে পড়তে হয় সে চিত্র এবার দেখা যায়নি। অনলাইনে বিক্রি হয়েছে ট্রেনের শতভাগ টিকিট, পাশাপাশি অধিকাংশ নামিদামি পরিবহনের বাসের আশি ভাগ টিকিট বিক্রি হয়েছে অনলাইনে। অপর দিকে লঞ্চের টিকিট বিক্রি নিয়েও গতকাল পর্যন্ত কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ঈদের আগে ট্রেন, বাসসহ অন্যান্য পরিবহনে কয়েক কোটি মানুষ চলাচল করবে। কিন্তু এবার নিরাপত্তা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে রয়েছেন বাস মালিকরা।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এ নিয়ে পরিবহন খাতের অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে রাতে দূরপাল্লার বাসে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের আশঙ্কা বেশি করছেন।
আট মাসে ২৫৫ ডাকাতি: গবেষণা ও সচেতনতামূলক প্রতিষ্ঠান সেভ দ্য রোডের তথ্য মতে, গত আট মাসে সড়ক, রেল ও নৌপথে ৪ হাজার ৫০৫টি ছিনতাই এবং ২৫৫টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে শুধু সড়কপথে ১ হাজার ৮৬৮টি ছিনতাই আর ১১৩টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৬৮ জন। এছাড়া ফুটপাত বা চলার পথে ২ হাজার ৪৩২টি ছিনতাই ও ৩৫টি ডাকাতির ঘটনায় ১ হাজার ১৭জন আহত এবং একজন নারীসহ দুই জন নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য মতে, গত বছর জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে নিবন্ধিত যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা ৫৪ হাজার ৪৭৪। এর মধ্যে আন্তঃজেলা বাস প্রায় ২২ হাজার। আর রাজধানী থেকে বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করে প্রায় ১০ হাজার বাস।
আতঙ্ক নিয়ে যাত্রীসেবা: সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি সূত্র জানায়, ঈদ ঘিরে রাজধানী থেকে বিভিন্ন জেলায় একটি বাস দিনে অন্তত তিনটি করে ট্রিপ দেবে। প্রতি ট্রিপে গড়ে ৪০ জন যাত্রী থাকলে ১০ হাজার বাসে দিনে ৮ লাখ যাত্রী পরিবহন করা হবে। এবার ডাকাত আতঙ্ক নিয়েই যাত্রীসেবা দিতে হবে। এ অবস্থায় সড়ক পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা যথেষ্ট পরিমাণে বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
হাইওয়ে পুলিশ: হাইওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, ঈদ যাত্রায় ডাকাতি-ছিনতাই থামাতে ২০০৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মহাসড়কে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনার ডাটা অ্যানালাইসিস করে ১ হাজার ৪৪৩ অপরাধীর তালিকা করেছে হাইওয়ে পুলিশ। সেই তালিকা ধরে অভিযান চালানো হচ্ছে।
হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া বলেন, 'মহাসড়কে ডাকাতি-ছিনতাই প্রতিরোধে আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছি। নতুন করে ৭০০ ফোর্স বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি জেলা পুলিশের সমন্বয় করে নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। একটি অ্যাপসের মাধ্যমে টহল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ৩ হাজার ৯০০ কিলোমিটার মহাসড়ক সাড়ে ৩০০র বেশি টহলদল কাজ করছে। ঈদ যত সন্নিকটে আসবে এই টহলসংখ্যা তত বাড়বে। তারা ১৫ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে।'
তিনি জানান, মহাসড়কের নিরাপত্তা ও নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১ হাজার ৪০০ ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ১ হাজার ৩৫০ ক্যামেরা চালু আছে। ঢাকা-মাওয়া সড়কে সড়ক কর্তৃপক্ষের স্থাপিত ক্যামেরার সার্ভারে কানেকশন নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া মহাসড়কে ঘুরছে ড্রোন। ড্রোন ব্যবহারে মহাসড়কের কোথায় কী অবস্থা সেটা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।