০৬ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার, ১০:৫০:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলাদেশী কর্মীদের ভিসা বন্ধের বিষয়ে যেসব নির্দেশনা দিয়েছে লাওস
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৬-১০-২০২৬
বাংলাদেশী কর্মীদের ভিসা বন্ধের বিষয়ে যেসব নির্দেশনা দিয়েছে লাওস

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ লাওসে শ্রমবাজার সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ার কারণ খুঁজছে বাংলাদেশ। তবে দেশটির সরকার বলছে, লাওসে বাংলাদেশের শ্রমবাজার খুব বড় না হলেও শ্রমিকরা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। আর অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে নানা সতর্কতা অবলম্বন করার কথা জানিয়েছে সরকার।



লাওস গত সেপ্টেম্বরেই বাংলাদেশী শ্রমিক নিয়োগ, ওয়ার্ক পারমিট এবং প্রবেশ ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই স্থগিতাদেশ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট চার মাস কার্যকর থাকবে।


একইসঙ্গে, এই সময়ে লাওসে গমনেচ্ছু বাংলাদেশী কর্মীদের কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে পাসপোর্ট জমা না দেয়া এবং কোনো আর্থিক লেনদেন না করার জন্য অনুরোধ করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।


তবে নির্ধারিত ওই সময়ের পর কী হবে সেটি জানায়নি মন্ত্রণালয়। আর ঠিক কী কারণে লাওস এই স্থগিতাদেশ দিয়েছে সেটি উল্লেখ করা হয়নি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে।


প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বিবিসি বাংলাকে জানান, সুনির্দিষ্ট কোনো কারণে এই স্থগিতাদেশ সেটি লাওস জানায়নি।


এর আগে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর লাওসের সংবাদপত্র দ্য লাওসিয়ান টাইমসের এক খবরে, লাওসে বাংলাদেশী কর্মীদের নতুন করে ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া, শ্রমিক আমদানির পরিকল্পনা এবং শ্রম প্রকল্পের অনুমোদন স্থগিত করার কথা বলা হয়েছে।


কিন্তু চুক্তিতে কাজের সময়সূচি নির্ধারিত থাকা লাওস সরকারের অনুমোদিত বড় অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলো এই স্থগিতাদেশের আওতামুক্ত থাকবে বলেও ওই খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।


যেসব নির্দেশনা মানতে বলা হয়েছে - লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ৯ সেপ্টেম্বরের আদেশের বরাত দিয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর দ্য লাওসিয়ান টাইমসে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে, অবৈধ প্রবেশ, মানব পাচার, অননুমোদিত শ্রমিক সরবরাহকারী এবং বিদেশ থেকে শ্রমিক আনার পর যেসব নিয়োগদাতারা দায়িত্ব এড়িয়ে যান তাদের নিয়ন্ত্রণ করতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।


কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে বাংলাদেশী নাগরিকদেরই লক্ষ্য করে কেন এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে, সেটি দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ের ওই নির্দেশনায় সুস্পষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি বলে খবরে বলা হয়েছে।


বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানিয়েছেন, লাওস এবং কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলোতে বাংলাদেশি কর্মীরা প্রতারণার শিকার হচ্ছে বলে সেসব দেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে আরেও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।


দ্য লাওসিয়ান টাইমসে বলা হয়েছে, দেশটির ওই আদেশের কারণে কোনো ব্যক্তি, কোম্পানি, নিয়োগদাতা বা লেবার অপারেটর স্বাধীনভাবে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রবেশ বা কর্মসংস্থানের অনুমতি দিতে পারবে না।


আইন লঙ্ঘনকারীদের জন্য আর্থিক জরিমানা, নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের মতো ব্যবস্থা নেয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে এই খবরে।


দ্য লাওসিয়ান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, অনুমোদন ছাড়া শ্রমিক আনলে বা নিয়োগ করলে নিয়োগদাতাকে প্রত্যেকটি ঘটনায় শ্রমিক প্রতি ২৫ লাখ লাও কিপ বা ১১০ মার্কিন ডলার জরিমানা করা হবে।


অন্য শ্রমিক ইউনিটে নিয়োগের জন্য শ্রমিক আনলেও একই জরিমানা দিতে হবে।


অন্যান্য শ্রমিক ইউনিটের জন্য নির্ধারিত কোনো শ্রমিককে কাজে ব্যবহার অথবা গ্রহণ করলে নিয়োগদাতাকে প্রতি ঘটনায় শ্রমিক প্রতি ২০ লাখ লাও কিপ বা ৮৯ মার্কিন ডলার জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার।


অনুমোদন ছাড়া অননুমোদিত কর্মস্থলে কাজ করলে শ্রমিককে প্রতি ঘটনায় ১০ লাখ লাও কিপ বা ৪৪ মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে হবে।


একইসঙ্গে তাকে ৩০ দিনের মধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছে লাওস।


শেয়ার করুন