১৪ জানুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ০৫:১৩:০৪ পূর্বাহ্ন
মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে বাংলাদেশি জেলে আহত
স্টাফ রিপোর্টার :
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৯-০১-২০২৬
মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে বাংলাদেশি জেলে আহত

কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় মিয়ানমার অংশ থেকে ছোড়া গুলিতে মোহাম্মদ আলমগীর (৩০) নামে এক জেলে আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর থেকে তিনি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এর আগে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নাফ নদীর বাংলাদেশ জলসীমার হোয়াইক্যং অংশে এ ঘটনা ঘটে।

আহত আলমগীর (৩৮) টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বালুখালী গ্রামের মৃত ছৈয়দ বলির ছেলে।

হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু জানান, সীমান্ত এলাকায় মাঝেমধ্যেই গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। বৃহস্পতিবার রাতেও কয়েক রাউন্ড গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। এ সময় ওপার থেকে আসা গুলিতে স্থানীয় এক জেলে আহত হন।

আহত জেলের বড় ভাই সরওয়ার আলম বলেন, বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর আলমগীর ও আরেক জেলে আকবর নাফ নদীর হোয়াইক্যংয়ের বিলাইচ্ছর দ্বীপ-সংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরতে যান। নৌকায় অবস্থান করে জাল ফেলছিলেন তারা। হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলির বিকট শব্দ শোনা যায়। একপর্যায়ে আলমগীর নৌকার ভেতরে লুটিয়ে পড়েন। পরে দেখা যায়, তার বাম হাত দিয়ে গুলি ঢুকে বের হয়ে গেছে এবং রক্তক্ষরণ হচ্ছে। সঙ্গে থাকা জেলেদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, আহত অবস্থায় প্রথমে আলমগীরকে উখিয়ার কুতুপালং এমএমএস হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য শুক্রবার দুপুরে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বিজিবি উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, এক জেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। ঘটনার পর নাফ নদী-সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নদীতে জেলেদের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু জেলে সেখানে যাচ্ছেন—এ বিষয়ে স্থানীয় জেলেদের আরও সচেতন করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশীপের উত্তর মংডু এলাকায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মি নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে। জান্তা নিয়ন্ত্রিত সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে তাদের তীব্র সংঘাত চলছে।

জাতিসংঘের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত নতুন করে অন্তত ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা এই সংঘাত ও সহিংসতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

এর আগেও গত ১৩, ১৭ ও সর্বশেষ ২৭ ডিসেম্বর রাতে মিয়ানমার অংশ থেকে সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।

শেয়ার করুন