নিজেকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) ট্রুথ সোশ্যালে নিজের একটি ছবি পোস্ট করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেই ছবির নিচে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের পদে আসীন হয়েছেন তিনি।
আর এর নিচে লেখা, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ ও ৪৭তম প্রেসিডেন্ট।
এর আগে, গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সরকারি বাসভবন থেকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে নিয়ে আসে মার্কিন সেনাবাহিনী। তাদের উভয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং মার্কিন আদালতে সেই অভিযোগের বিচারের প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে মাদুরো এবং সিলিয়া নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল কারাগারে বন্দি আছেন।
মাদুরোকে অপহরণের কয়েক ঘণ্টা পর ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করে। ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীও ডেলসি-কে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
মার্কিন সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর দেশটির নেতৃত্ব সাময়িকভাবে নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের হাতে চলে গেছে। পরে তিনি শপথ নেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করার কথা জানান।
অন্যদিকে, এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলায় আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কোনো নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। ভেনেজুয়েলার দায়িত্বে আমি আছি। প্রথমে আমাদের দেশটাকে ঠিক করতে হবে। নির্বাচন করা যাবে না। মানুষের পক্ষে ভোট দেওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতিই নেই।
এতে কিছুটা সময় লাগবে। দেশটাকে আবার সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে।
এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরো জানান, ভেনেজুয়েলার জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠনে তেল কম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ভর্তুকি দিতে পারে। তার মতে, এই কাজ ১৮ মাসের কম সময়ের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব।
তিনি বলেন, আমি মনে করি, এর চেয়েও কম সময়ে করা যাবে, তবে এতে বিপুল অর্থ লাগবে। বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হবে। তেল কম্পানিগুলো সেই অর্থ বিনিয়োগ করবে এবং পরে আমরা বা রাজস্বের মাধ্যমে তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
সাক্ষাৎকারে এনবিসি নিউজ জানায়, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা পরিচালনায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ভূমিকা রাখবেন।
তবে কে শেষ পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার দায়িত্বে থাকবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এক শব্দে বলেন, ‘আমি।’

