৩১ জানুয়ারী ২০২৬, শনিবার, ০৩:৪৮:৩২ অপরাহ্ন
এনসিটি টার্মিনাল হস্তান্তর নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারী ও বন্দর কর্তৃপক্ষ মুখোমুখি
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩১-০১-২০২৬
এনসিটি টার্মিনাল হস্তান্তর নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারী ও বন্দর কর্তৃপক্ষ মুখোমুখি

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানির কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে সৃষ্ট শ্রমিক অসন্তোষ দমনে কঠোর হয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারী এবং বন্দর কর্তৃপক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে। হস্তান্তরের সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে আজ শনিবার এবং আগামীকাল রবিবার আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে শ্রমিকরা।


শ্রমিকরা যাতে আন্দোলন না করতে পারেন সে লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ‘হুঁশিয়ারি’ দিয়ে নোটিশ জারি করেছে। গত বৃহস্পতিবার বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) এর পক্ষ থেকে জারি করা নোটিশে বলা হয়েছে, ‘বন্দর কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এনসিটি প্রকল্পের বিষয়ে একটি রিটে মহামান্য হাইকোর্টেও রায়কে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বন্দরের কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারী বন্দর ভবনে এবং ভবন এলাকার মিছেলে অংশগ্রহণ করে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করে। এছাড়া তারা দলবদ্ধভাবে মহড়া দিয়ে বিশৃঙ্খলা ও অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে। সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করে এবং গণমাধ্যমে বক্তব্য প্রদান করে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন-২০০২, চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী চাকরি প্রণিধানমালা-১৯৯১সরকারী কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা-১৯৭৯,সরকারী কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা ২০১৯ ও সরকারী পরিপত্র অনুযায়ী সুস্পষ্ট পেশাগত অসদাচরণ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। নোটিশে আরো বলা হয়, উক্ত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা বন্দর কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করেছে এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থবিরোধী কাজ করছে।  ইতিপূর্বে এ বিষয়ে সকল কর্মকর্তা কর্মচাারীকে সতর্ক করা হয়েছে। এমতাবস্থায় বন্দরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকলকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে হুমকি দেওয়া হয়।’ 


উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি টার্মিনাল কোনো দরপত্র ছাড়াই বিদেশি কোম্পানির কাছে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ করে আসছিলেন শ্রমিক কর্মচারীরা। এর আগেও সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বন্দর এলাকায় সমাবেশ ও মিছিল মিটিং করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ সময়ে এসে এনসিটি টার্মিনালের চুক্তি করতে যাচ্ছে সরকার। সরকার যাতে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সে লক্ষ্যে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় শ্রমিকপক্ষ।


কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা


চট্টগ্রাম বন্দরে আহূত শনিবারের কর্মবিরতি ও রবিবারের ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় জানিয়েছেন স্কপ চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দল এবং চট্টগ্রাম বন্দর শ্রমিক দলের নেতৃবৃদ।


চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের জেনারেল সেক্রেটারি ও স্কপ নেতা নুরুল্লা বাহার ইত্তফাককে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে শনিবার ও রবিবার ঘোষিত কর্মবিরতি ও ধর্মঘটের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।


চট্টগ্রাম বন্দর শ্রমিক দলের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন খোকনও বলেছেন,  সরকার আমাদেরকে কিছু জানায়নি। বন্দর কর্তৃপক্ষ ঘণ্টায় ঘণ্টায় নানা প্রজ্ঞাপন, নোটিশ জারি করছে। বন্দরে সেনা, বিজিবি, পুলিশ জড়ো করছে। কাজেই আলোচনার কোনো পরিবেশ নেই। আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।


শেয়ার করুন