চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার জেরে সৌদি আরব ও কুয়েতের দূতাবাস বন্ধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা দূতাবাস বন্ধ রাখছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) পৃথক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। খবর সিএনএন
সংবাদমাধ্যমটির খবরে বলা হয়, সব ধরনের কনস্যুলার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করেছে সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। ইরানি ড্রোন হামলার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোরে দুটি ড্রোন আঘাত হানে দূতাবাস।
হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, এর ফলে সামান্য অগ্নিকাণ্ড এবং সামান্য বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র সিএনএন-কে জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দূতাবাস লিখেছে, ‘মার্কিন নাগরিকদের জন্য সমস্ত রুটিন এবং জরুরি সেবা সংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করা হয়েছে। জেদ্দা, রিয়াদ এবং দাহরানের জন্য দেওয়া নিরাপদ স্থানে অবস্থান বিজ্ঞপ্তি এখনও বহাল রয়েছে। আমরা সৌদি আরবে অবস্থানরত আমেরিকানদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দিচ্ছি।’
দূতাবাস আরও যোগ করেছে, সকল মার্কিন নাগরিকের উচিত একটি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা পরিকল্পনা বজায় রাখা এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দূতাবাস এলাকা এড়িয়ে চলা।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানায়, তারা রিয়াদ এবং মধ্যাঞ্চলীয় শহর আল খারজ-এর কাছে আটটি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করেছে। তবে এই ড্রোনগুলোর কারণে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা ওই বিবৃতিতে জানানো হয়নি।
কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও বন্ধের ঘোষণা দিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে দূতাবাস জানায়, ‘আমরা সমস্ত নিয়মিত এবং জরুরি কনস্যুলার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করেছি। দূতাবাস যখন আবার স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করবে, তখন আমরা তা জানিয়ে দেব।’
সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার সকালে কুয়েতের একটি বেসামরিক বন্দরে মার্কিন বাহিনীর একটি অস্থায়ী অপারেশন সেন্টারে সরাসরি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই সংঘর্ষে প্রথমবারের মতো মার্কিন সেনারা নিহত হন। সোমবার বিকালে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড ঘোষণা করেছে, এই হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে এখন ছয়-এ দাঁড়িয়েছে।

