১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার, ০৪:৩৬:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রাজশাহী আইএইচটিতে হিন্দু শিক্ষক ও মুসলিম ছাত্রী নিখোঁজ, বরিশালে পাশাপাশি মোবাইল লোকেশন
স্টাফ রিপোর্টার :
  • আপডেট করা হয়েছে : ১০-০৯-২০২৬
রাজশাহী আইএইচটিতে হিন্দু শিক্ষক ও মুসলিম ছাত্রী নিখোঁজ, বরিশালে পাশাপাশি মোবাইল লোকেশন

রাজশাহীর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) এক শিক্ষার্থী ও একই প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষকের একসঙ্গে নিখোঁজ থাকার অভিযোগ উঠেছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষক অসীম কুমার ঘোষ ও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেরুন নাহার মৌয়ের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। তাদের মোবাইল ফোনের লোকেশন বরিশাল সদর এলাকায় পাশাপাশি অবস্থান করছিল বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।


এ ঘটনায় শিক্ষক-ছাত্রীর সম্পর্ক, হোস্টেল ছাড়ার আবেদন এবং তাদের একই সময়ে প্রতিষ্ঠানের বাইরে অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর মেহেরুন নাহার মৌ মহিলা হোস্টেল ছাড়ার জন্য হোস্টেল সুপারের কাছে আবেদন করেন। আবেদনে কলেজ বন্ধ থাকায় বাড়িতে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে হোস্টেল ত্যাগের অনুমতি চান তিনি। তবে পরিবারের দাবি, মৌ বাড়িতে যাননি।


মৌয়ের বাবা মোসলেম উদ্দিন বলেন, ‘আমার মেয়ে বাড়িতে আসেনি। সে বাড়িতে এলে আমাকে জানিয়ে আসত।’


অন্যদিকে একই সময়ে শিক্ষক অসীম কুমার ঘোষও কয়েক দিনের ছুটি নিয়ে প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তিনি সাত দিনের ছুটি নিয়েছেন। তবে কী কারণে তিনি ছুটি নিয়েছেন, সে বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই বলে জানা গেছে।


অভিযোগকারীদের দাবি, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে অসীম কুমার ঘোষ ও মেহেরুন নাহার মৌয়ের মোবাইল ফোনের লোকেশন বরিশাল সদর এলাকায় পাশাপাশি অবস্থান করছিল। তবে তাদের প্রকৃত অবস্থান ও তারা সেখানে কী কারণে গেছেন, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।


মৌয়ের এক ঘনিষ্ঠজনের দাবি, অসীম কুমার ঘোষের সঙ্গে ওই ছাত্রীর দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তারা প্রায় প্রতিদিন রাতে তিন থেকে চার ঘণ্টা ফোনে কথা বলতেন। ছাত্রদলের নবীনবরণের আগে কেনাকাটার জন্য শিক্ষক ওই ছাত্রীকে কয়েক হাজার টাকা দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এছাড়া তাদের কক্সবাজারে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েও কথোপকথন হয়েছিল বলে জানান ওই ঘনিষ্ঠজন।


এদিকে শিক্ষার্থীদের কয়েকজন আরও অভিযোগ করেছেন, মৌ দীর্ঘদিন ধরে মহিলা হোস্টেলে অবস্থান করছিলেন এবং হোস্টেলে থাকার নির্ধারিত মেয়াদ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং জুনিয়র শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে চাপ দিতেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।


হোস্টেল পরিচালনা নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, মহিলা হোস্টেলের বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয় হোস্টেল সুপারের পরিবর্তে ওই ছাত্রীর মাধ্যমে পরিচালিত হতো। এতে হোস্টেল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নিয়ম-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাদের।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এখানে আমরা দুজনের বিষয়টি নিয়ে অনেকদিন ধরেই জানি। তাদের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে এমন আলোচনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’



ঘটনার বিষয়ে শিক্ষক ও ছাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তাদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল এবং হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


মহিলা হোস্টেলের সুপার আফিফা আফরোজ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।


রাজশাহী ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির অধ্যক্ষ ডা. মির্জা মহম্মদ ওয়াসি বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা শুনলাম। ওই শিক্ষক দুই-তিন দিনের ছুটি নিয়ে গেছেন। আর হোস্টেল সুপারের কাছে জানতে পেরেছি, মেয়েটি হোস্টেল থেকে ছুটি নিয়ে বাসায় গেছে। এখন হোস্টেল থেকে বের হয়ে বাসায় গেল, নাকি অন্য কোথাও গেল সেটা দেখার দায়িত্ব আমাদের আছে বলে মনে হয় না।’


শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষক-ছাত্রীর একই সময়ে প্রতিষ্ঠানের বাইরে অবস্থান এবং তাদের মোবাইল ফোনের লোকেশন একই এলাকায় শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি হোস্টেল ছাড়ার আবেদনে উল্লেখ করা তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল না থাকার অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

শেয়ার করুন