১৩ মে ২০২৬, বুধবার, ১১:৪৭:৫৯ পূর্বাহ্ন
বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণ ও রুপার দাম
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৩-০৫-২০২৬
বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণ ও রুপার দাম

মার্কিন ডলারের শক্তি বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক মুদ্রানীতির পরিবর্তনের কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ রাখার আভাস এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা শিথিল হওয়া এই দরপতনের প্রধান কারণ।



বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের দাম ১ শতাংশ কমেছে।


বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় ১৩টা ২০ মিনিটে প্রতি আউন্স স্পট গোল্ডের দাম ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬৮৫ দশমিক ৯৯ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার ১ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৬৯৩ দশমিক ৯০ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।


বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। টিডি সিকিউরিটিজের পণ্য কৌশল বিভাগের প্রধান বার্ট মেলেক বলেন, তেলের দাম বাড়লে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়িয়ে দিতে পারে। আর সুদের হার বাড়লে সাধারণত স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।


যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, দেশটিতে এপ্রিল মাসে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম টানা দ্বিতীয় মাসের মতো বেড়েছে। এটি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বার্ষিক মূল্যস্ফীতি। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণত উচ্চ সুদের হারের সময় স্বর্ণ ধরে রাখা বিনিয়োগকারীদের জন্য কম লাভজনক হয়ে ওঠে।


তবে দীর্ঘ মেয়াদে স্বর্ণের বাজার নিয়ে এখনও ইতিবাচক অনেক বিশ্লেষক। ইউবিএস ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের কৌশলবিদ জনি তেভেস বলেন, ‘আমরা মনে করি বর্তমান অবস্থান থেকে স্বর্ণের দাম ঘুরে দাঁড়াবে এবং এ বছর নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।’


এদিন স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৮৪ দশমিক ০৬ ডলারে নেমেছে। এ ছাড়া প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ২ হাজার ৯৬ দশমিক ১৯ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৭৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।


শেয়ার করুন