২৬ মে ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৭:২৩:৪৭ অপরাহ্ন
নতুন নেতৃত্বের ডাক দিলেন মোজতবা খামেনি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৬-০৫-২০২৬
নতুন নেতৃত্বের ডাক দিলেন মোজতবা খামেনি

হজ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় মুসলিম দেশগুলোকে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং মার্কিন আধিপত্য-পরবর্তী নতুন নেতৃত্বের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ব্যবস্থা নির্মাণের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি।


পবিত্র আরাফার দিন উপলক্ষে মঙ্গলবার প্রকাশিত বার্তায় তিনি বলেন, মুসলিম উম্মাহ এবং অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বহু অভিন্ন সক্ষমতা ও অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। এগুলোই ভবিষ্যতের নতুন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কাঠামো গঠনে ভূমিকা রাখবে।


খামেনি বলেন, মুসলিম দেশগুলো এমন এক ঐতিহাসিক পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে আঞ্চলিক বাস্তবতা অপরিবর্তনীয়ভাবে বদলে যাচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রভাব ক্রমাগত কমে আসছে।



তিনি বলেন, সময়ের চাকা আর পেছনে ফিরবে না। এই অঞ্চলের দেশ ও জনগণ আর মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ঢাল হিসেবে কাজ করবে না।



তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই অঞ্চলে আর ষড়যন্ত্র পরিচালনা কিংবা সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের নিরাপদ আশ্রয় অবশিষ্ট থাকবে না এবং দেশটি প্রতিদিনই তার আগের অবস্থান থেকে আরও দূরে সরে যাচ্ছে।


খামেনি বলেন, আগামীর ভবিষ্যৎ মুসলিম উম্মাহর এবং নতুন ইসলামী সভ্যতার।


বার্তায় তিনি আঞ্চলিক প্রতিরোধ অক্ষের ভূমিকাকে বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান, লেবানন, ফিলিস্তিন, ইরাক, সিরিয়া, আফ্রিকা, ইয়েমেন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানজুড়ে বিস্তৃত এই প্রতিরোধ শক্তি একটি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।


তিনি দাবি করেন, এসব গোষ্ঠী মার্কিন প্রভাব মোকাবিলা করেছে, ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং আইএস বা দায়েশের মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছে।


খামেনি ইসরায়েলকে ক্যানসারসদৃশ টিউমার এবং অস্থিতিশীল শাসনব্যবস্থা হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, এই দেশ অভিশপ্ত জীবনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।


তিনি আরও বলেন, শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনি একসময় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থা পরবর্তী ২৫ বছর টিকে থাকতে পারবে না। বর্তমান পরিস্থিতি সেই ভবিষ্যদ্বাণীকেই বাস্তবের দিকে এগিয়ে নিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


বার্তায় সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের অর্জনকে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হয়। খামেনি বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান তার শক্তিশালী আঘাতে জায়নবাদী শাসনব্যবস্থাকে অসহায় করে তুলতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে আগ্রাসী আমেরিকাকে কঠোর চপেটাঘাত করেছে এবং ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার শত্রুর লক্ষ্য ব্যর্থ করে দিয়েছে।


তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবং বিশেষ করে লেবাননের মিত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর প্রশংসা করে বলেন, তারা পূর্ণ অস্ত্রে সজ্জিত আমেরিকান-জায়নবাদী সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য বিজয় অর্জন করেছে।


বার্তায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে মহাশয়তান আমেরিকা এবং তার প্রশিক্ষিত প্রাণী জায়নবাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হয়েছে।


বার্তায় আরও বলা হয়, সংঘাতের শুরুর দিকে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাহাদাতের পর ইরানি জনগণ নতুন উদ্দীপনায় সংগঠিত হয়।


তিনি বলেন, মহান নেতার হৃদয়বিদারক শাহাদাতের পর ইরানি জাতি নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করে।


খামেনির মতে, জনগণ রাস্তায় নেমে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে, মাতৃভূমির পক্ষে অবস্থান নিয়ে এবং কঠিন পরিস্থিতিতে দৃঢ়তা প্রদর্শনের মাধ্যমে পুরো বিশ্বকে বিস্মিত করেছে।


বার্তায় হজকে কেবল ধর্মীয় আচার হিসেবে নয়, বরং মিথ্যা শক্তির প্রত্যাখ্যান, আত্মশুদ্ধি, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থানের ধারাবাহিক পথ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।


খামেনির ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের সময় ইরানি জনগণ পরাধীনতা প্রত্যাখ্যান করে এবং বিশুদ্ধ মুহাম্মদি ইসলাম-এর পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই পথেই যাত্রা শুরু করেছিল।


তিনি বলেন, সেই ধর্মীয় চেতনা মার্কিন-সমর্থিত স্বৈরশাসন উৎখাতে জনগণকে অনুপ্রাণিত করেছিল। একই চেতনা ১৯৮০-এর দশকের যুদ্ধ, পশ্চিমা চাপ এবং দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও দেশকে শক্তি জুগিয়েছে।


ইরানি হজযাত্রীদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় খামেনি বলেন, অন্যান্য দেশের মুসলমানদের কাছে চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে বিজয়ের কাহিনি পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।


তিনি মুসলিম ঐক্য, ফিলিস্তিনের মুক্তি এবং বিশ্বব্যাপী ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে বিজয়ের জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান।


বার্তায় অত্যাচারী ও শত্রুদের প্রতি ঘৃণা ও সম্পর্কচ্ছেদের ইসলামী নীতির ওপরও জোর দেওয়া হয়। তার মতে, এই নীতি শুধু হজের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মুসলিমদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনেও এর প্রতিফলন থাকা উচিত।


খামেনি বলেন, মৃত্যু আমেরিকার, মৃত্যু ইসরায়েলের; এই স্লোগানই হবে মুসলিম উম্মাহ এবং বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের, বিশেষ করে তরুণদের অভিন্ন স্লোগান।


সূত্র : প্রেস টিভি


শেয়ার করুন