০৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০২:১১:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
‘মব’ করে পদত্যাগপত্রে ভিসির সই, বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৭-১০-২০২৬
‘মব’ করে পদত্যাগপত্রে ভিসির সই, বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক ও সেকশন অফিসার নাজমুল হোসাইনকে মব করে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগে নগরীর রাজপাড়া থানায় মামলা হয়েছে।



মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে পদত্যাগে বাধ্য হওয়া ভিসির পিএস ও হিসাব শাখার সেকশন অফিসার নাজমুল হোসাইন বাদী হয়ে নগরীর রাজপাড়া থানায় অজ্ঞাত ৫০ থেকে ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। ওই মামলায় পুলিশ রাতেই রাজপাড়া থানা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুস সালামকে নগরীর প্যারামেডিক্যাল এলাকার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে।


রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার গাজীউর রহমান জানান, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করা, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, ভয়ভীতি প্রদর্শন, শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা, সরকারি মালামাল লুট ও অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় ভিসির পিএস নাজমুল হোসাইন বাদী হয়ে রাজপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলা রেকর্ডভুক্ত হওয়ার পর পুলিশ গভীর রাতে আব্দুস সালাম নামের একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে অপমান, অপদস্থ, লাঞ্ছিত এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অবৈধভাবে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। অন্যদিকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে সর্বস্তরের চিকিৎসকদের ব্যানারে পৃথক মানববন্ধন থেকে রামেবির ভিসিকে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়েছে। মানববন্ধন থেকে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানানো হয়।


জানা গেছে, জোর করে পদত্যাগ করানোর ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্যাম্পাসে এলেও কোনো কাজ করতে পারছেন না বলে সাংবাদিকদের জানান রামেবির ডেপুটি রেজিস্টার ডা. মোফাখখারুল ইসলাম।


প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে ‘রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতার উপাচার্য ঘেরাও’ কর্মসূচি চলাকালে এই পদত্যাগ করানোর ঘটনা ঘটে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংশ্লিষ্টতাসহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ছাত্র-জনতার ব্যানারে ঐ আন্দোলন করা হয়। পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর পর ভিসিকে তার অফিস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়। এসময় ভিসিকে রক্ষায় গিয়ে তার একান্ত সচিব (পিএস) নাজমুল হোসাইন মারধর এবং পদত্যাগে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।


প্রত্যক্ষদর্শী রামেবির কর্মকর্তারা জানান, ভিসি ও পিএসকে পদত্যাগ করানোর সময় সেখানে, ‘জ্বালোরে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও, আওয়ামী লীগের আস্তানা’ এবং ‘আওয়ামী লীগের দোসর ভিসি, হুঁশিয়ার সাবধান’ ইত্যাদি স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল।


পরে বিকেলে নিজ বাংলোর সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভিসি ডা. জাওয়াদুল হক সাংবাদিকদের বলেন,


ঠিকাদার ও রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকা কিছু লোক আগেও আমার পদত্যাগ দাবিতে মানববন্ধন করেছিল। বিভিন্ন সময় তারা আমার কাছে ঠিকাদারি কাজ চাইতো।  তারা দাবি করতো, আমি যেন জোর করে তাদের কাজ পাইয়ে দিই। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় তারা হঠাৎ আমার অফিসে জোর করে ঢুকে যায়। তারা অভিযোগ করে, তাদের কাজ না দিয়ে ঢাকার ঠিকাদারকে দিয়েছি। এ সময় তারা আমাকে আওয়ামী লীগের দোসর বলে লাঞ্ছিত করে। তারা মব সৃষ্টি করে আমার মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেয়। প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোর করে একটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছে।


ভিসি আরও বলেন, ‘তারা স্বাক্ষর নিয়ে আমাকে বের করে দিয়ে অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এভাবে জোর করে কাউকে পদত্যাগ করানো যায় না। কিন্তু অফিসে যাওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। তারা আমার একান্ত সচিব নাজমুল হোসাইনকে অবরুদ্ধ করে মানসিক ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে। অফিসের সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক, কম্পিউটারের সিপিইউ নিয়ে গেছে। এটি কোনো নিয়মতান্ত্রিক পদত্যাগ নয়, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।’


ভিসির একান্ত সচিব  ও সেকশন অফিসার অর্থ নাজমুল হোসাইন জানান, ‘আন্দোলনের নামে আসা ব্যক্তিদের হাতে অস্ত্র ছিল। অস্ত্র ঠেকিয়ে তারা আমাকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করিয়েছে। এটা কোনো পদত্যাগ নয়, অস্ত্রের মুখে এটা করতে তারা বাধ্য করেছে।’ 


শেয়ার করুন