চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্মূল্যায়নসহ পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদনের সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত দেড় লাখের বেশি শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। এসব আবেদনে বিষয় ও পত্র মিলিয়ে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের সংখ্যা পাঁচ লাখের বেশি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, গত ১ নভেম্বর থেকে ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত দেড় লাখের বেশি শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। তাদের আবেদনে খাতার সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়েছে। আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ থাকায় এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এরমধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। এ বছর পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ কম। ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
যেভাবে করবেন ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন
ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে (https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd) প্রবেশ করতে হবে। সেখানে পরীক্ষার্থীর রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।
পরবর্তী ধাপে একটি সচল মোবাইল নম্বর দিতে হবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর এই নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানানো হবে। এরপর স্ক্রিনে প্রদর্শিত বিষয়ভিত্তিক ফলাফল থেকে যেসব বিষয়ের খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করতে চান, সেগুলো নির্বাচন করে ‘ফি প্রদান করুন’ অপশনে ক্লিক করতে হবে।
প্রতিটি পত্রের জন্য আবেদন ফি ১৫০ টাকা। দ্বিপত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্য আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত ফি বিকাশ, নগদ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের রকেট, উপায় ও সোনালী সেবার মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে। ফি পরিশোধের বিস্তারিত নিয়ম ওয়েবসাইটের ‘হেল্প’ অপশনে পাওয়া যাবে।
ফি পরিশোধের পর আবেদন পোর্টালে পুনরায় প্রবেশ করে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর নতুন কোনো বিষয় যুক্ত করতে চাইলে একই পদ্ধতিতে আবার আবেদন করা যাবে। তবে সে ক্ষেত্রে নতুন করে মোবাইল নম্বর দিতে হবে না।
অন্যদিকে, ফি পরিশোধের আগে আবেদন সংশোধন করতে চাইলে ‘মুছে ফেলুন’ অপশনের মাধ্যমে নির্বাচিত বিষয় বাদ দিয়ে নতুন বিষয় নির্বাচন করা যাবে। তবে একবার ফি জমা দেওয়ার পর নির্বাচিত বিষয় বাতিল করা যাবে না। এছাড়া পরিশোধ করা ফি কোনো অবস্থাতেই ফেরত দেওয়া হবে না।
শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য সরাসরি বা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমেই আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
এর আগে, গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ১১টি শিক্ষাবোর্ডে এবার গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ৯৭। সেই হিসাবে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।