০৯ অগাস্ট ২০২৬, রবিবার, ১২:০৯:১২ পূর্বাহ্ন
ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পূরণ হবে না
স্টাফ রিপোর্টার :
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৮-০৮-২০২৬
ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পূরণ হবে না

রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো মানুষের মধ্যে অধিকার, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জবাবদিহি সম্পর্কে নতুন প্রত্যাশার সৃষ্টি হওয়া। এই অর্জনকে টেকসই করতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা, আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলোর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয়।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে নগরীর একটি কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে শুধু সরকার পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের কাজে রূপ দিতে হবে।

রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহা. আব্দুল আউয়ালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন শান্তর সঞ্চালনায় সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কাসেম, গবেষক ও লেখক মাহবুব সিদ্দিকী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ, আরইউজের সাবেক সভাপতি, গবেষক ও সাংবাদিক সরদার আবদুর রহমান, আরইউজের সাবেক সভাপতি ও কথাশিল্পী ডা. নাজিব ওয়াদুদ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদারবক্স হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শাহ্ হোসাইন আহমদ মেহ্দী। 

সভায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আরইউজের সহসভাপতি মঈন উদ্দিন, দৈনিক নতুন প্রভাতের সম্পাদক সোহেল মাহবুব, দৈনিক আমার দেশের রিপোর্টার এম শামীম প্রমুখ। সভায় বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে। সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। গুজব, অপতথ্য ও রাজনৈতিক পক্ষপাত এড়িয়ে জনগণের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রের সংস্কার কার্যক্রম এবং সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতার বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন কিংবা বিরোধী—কোনো পক্ষের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে সাংবাদিকদের স্বাধীন, পেশাদার ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তারা বলেন, পেশাজীবীদেরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে রাষ্ট্রের সংস্কার, সুশাসন ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে হবে। শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে তাদের পেশাগত দক্ষতা, নৈতিকতা ও অভিজ্ঞতাকে জাতীয় স্বার্থে কাজে লাগাতে হবে। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে একটি কার্যকর, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনে তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।

বক্তারা আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের সামনে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক চাপ, দুর্নীতি, প্রশাসনিক সংস্কার, বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা এবং সামাজিক বিভাজনসহ নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রের ভুল ও অনিয়মের সমালোচনা যেমন প্রয়োজন, তেমনি ইতিবাচক উদ্যোগগুলোও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।

তারা বলেন, সাংবাদিক ও পেশাজীবীরা জনগণ ও রাষ্ট্রের মধ্যে দায়িত্বশীল সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারেন। গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে তাদের ঐক্যবদ্ধ, পেশাদার ও নৈতিক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সাংবাদিক ও পেশাজীবীদের দায়িত্বশীল অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে হবে। 

শেয়ার করুন