১৪ অক্টোবর ২০২৬, বুধবার, ১২:৪৫:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ইলিশের উৎপাদন-আকার-স্বাদ সবই কমছে
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৪-১০-২০২৬
ইলিশের উৎপাদন-আকার-স্বাদ সবই কমছে

‎দেশের বাজারে ইলিশের দেখা মিললেও পছন্দের আকার ও মানের মাছ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে চড়া দাম। দাম অনুযায়ী স্বাদ না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে অনেকের। ফলে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী এই মাছ এখন অনেক পরিবারের নিয়মিত খাবারের বদলে সীমিত হয়ে পড়ছে বিশেষ উপলক্ষে।


‎ ‎বাঙালির পাতে ইলিশ মানেই আলাদা আবেগ, আলাদা স্বাদ। তবে সেই ইলিশ কিনতে এখন গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। ক্রেতাদের অভিযোগ, দাম চড়া হলেও অনেক ইলিশে মিলছে না আগের মতো স্বাদ, আকারেও দেখা যাচ্ছে পরিবর্তন। অন্যদিকে, কয়েক বছর ধরে কমছে দেশের ইলিশের উৎপাদন।


মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, তিন অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন কমেছে প্রায় ৭১ হাজার টন। সরবরাহে ঘাটতি মেটাতে আমদানির দিকেও ঝুঁকছেন ব্যবসায়ীরা।


বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত আহরণ, নদীদূষণ ও নাব্যতা সংকটে ব্যাহত হচ্ছে ইলিশের বিচরণ ও প্রজনন।



‎ ‎মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন ছিল প্রায় ৫ লাখ ৭১ হাজার টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ ২৯ হাজার টনে। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদন নেমে আসে প্রায় ৫ লাখ টনে। অর্থাৎ, তিন অর্থবছরে উৎপাদন কমেছে প্রায় ৭১ হাজার টন। অভ্যন্তরীণ সরবরাহে ঘাটতি থাকায় চাহিদা পূরণে আমদানির ওপরও নির্ভর করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। ‎ ‎ ‎ইলিশের উৎপাদন ও আকার কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ দেখছেন ইলিশ বিশেষজ্ঞ ড. আনিসুর রহমান। নদী ও মোহনার পরিবেশের পরিবর্তন, দূষণ এবং নাব্যতা সংকট ইলিশের বিচরণ, খাদ্যপ্রাপ্তি ও প্রজননক্ষেত্র পরিবর্তনের কারণকে দায়ী করেন তিনি।


‎ ‎ইলিশের উৎপাদন ও স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে জাটকা ও মা-ইলিশ সংরক্ষণ ও অভয়াশ্রম রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণ, নাব্যতা বজায় রাখা এবং ইলিশের চলাচলের পথ অক্ষুণ্ন রাখতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।




শেয়ার করুন