রাজশাহীর দুর্গাপুরে দৈনিক সাগরকূল পত্রিকার ১৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) 'দৈনিক সাগরকূল' পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ নেছার উদ্দিনের দিক নির্দেশনায়, অধ্যাপক মোঃ সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে রাজশাহী ব্যুরো প্রধান আলামিন হক বিজয়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উত্তর বঙ্গের শ্রেষ্ঠ মৎস্য খামারি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক এবং রাজনীতিবিদ মোঃ গোলাম সাকলায়েন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দুর্গাপুরের জনতার মেয়র খ্যাত রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ জার্জিস হোসেন সোহেল।
সভাপতি অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, সাংবাদিকতা হলো সমাজের দর্পণ এবং গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ, আর এই নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতা হলো সংবাদমাধ্যমের প্রাণ। একজন সাংবাদিকের নিজস্ব রাজনৈতিক বা সামাজিক আদর্শ থাকতে পারে, কিন্তু পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় তাকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক থাকতে হয়। বর্তমান ডিজিটাল যুগে দ্রুত সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে অনেক সময় সত্যতা যাচাইয়ের আগেই তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এক্ষেত্রে সত্যনিষ্ঠা রক্ষা করা বড় চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তির পরিবর্তন যতই ঘটুক, সময় যত এগোই সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও দল-নিরপেক্ষ অবস্থানই হলো সুস্থ সমাজ ও গণতন্ত্রের প্রধান শর্ত।
আলামিন হক বিজয় তার সঞ্চালনায় বলেন, সরকারি মিডিয়া তালিকা ভুক্ত, বাংলাদেশের গণমানুষের কণ্ঠস্বর এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার বিশ্বস্ত প্রতীক ‘দৈনিক সাগরকূল’ গৌরবের সাথে ১৩ বছর পূর্ণ করে ১৪ বছরে পদার্পণ করেছে। দীর্ঘ পথচলায় তৃণমূল থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সত্য প্রকাশ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং অর্থবহ উন্নয়নের সংবাদ তুলে ধরে আমাদের পত্রিকাটি পাঠকদের সুদৃঢ় আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। আমাদের এই অর্জন আপনাদের সহযোগিতার দ্বারাই সম্ভব হয়েছে। এই সফলতার অংশীদার দেশবাসী।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জার্জিস হোসেন সোহেল বলেন, "আমি 'দৈনিক সাগরকূল' পত্রিকার নিয়মিত পাঠক। পত্রিকাটি সব সময় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করে। সাংবাদিকরা জাতির বিবেক আর সংবাদপত্র সমাজের আয়না। এই আয়নাতে আমরা দেশের সব কিছু দেখতে পাই।" তিনি সাংবাদিক ও সংবাদপত্রকে নিরপেক্ষভাবে সত্য প্রকাশের জন্য আহ্বান জানান এবং পত্রিকার উত্তরণ কামনা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাম সাকলায়েন বলেন, আমার প্রিয় পত্রিকা গুলোর মধ্যে 'দৈনিক সাগরকূল' ১টি। তিনি সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের নিরপেক্ষতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ব্যাপারে বিএনপি সরকারের স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরে বলেন, গণমাধ্যম কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর ক্রীড়নক (পাপেট) না হয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে জনগণের কাছে সত্য তথ্য উপস্থাপন করবে। সংবাদমাধ্যম মূলত সরকারের চেয়ে জনগণের কাছে বেশি দায়বদ্ধ বলে মনে করেন তিনি। স্বাধীন গণমাধ্যমের একটি সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি করতে সরকার জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৬-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে। সরকার গণমাধ্যম এবং গণমাধ্যম কর্মীদের স্বাধীনতা দিয়েছে। যা বিগত সরকারের সময় ছিল না। তিনি সকল পাঠকদের 'দৈনিক সাগরকূল' পত্রিকা পাঠে উৎসাহিত করেন এবং এর সফলতা কামনা করেন।
উক্ত আলোচনা সভা শেষে ‘দৈনিক সাগরকূল’ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সমাজ সেবায় অসামান্য অবদানকে শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে এবং স্বচ্ছ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বিশেষ অতিথিকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
এই সময় বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিকবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে দোয়ার মাধ্যমে সভার সমাপ্ত হয়।

