১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার, ০৮:৪৬:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
অনুমোদনের পর দুই সপ্তাহ, পে-স্কেলের গেজেট এখনো অধরা
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৪-০৯-২০২৬
অনুমোদনের পর দুই সপ্তাহ, পে-স্কেলের গেজেট এখনো অধরা

এক সপ্তাহের মধ্যে গেজেট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এরই মধ্যে দুই সপ্তাহ পেরিয়ে যাচ্ছে, এখনো গেজেটের কোনো খবর নেই। এ কারণেই সবার মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে—আবার কোথায় আটকে গেল! বিবিসি বাংলাকে বলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা।



তিনি বলেন, প্রতি পাঁচ বছর পরপর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করার কথা থাকলেও গত ১০ বছরে তা হয়নি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর গত ৩১ আগস্ট নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করে সরকার। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে সেটি জানানো হয়। সপ্তাহখানেকের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হতে পারে বলে তখন ইঙ্গিত দিয়েছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।


তবে প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। এতে সরকারি চাকরিজীবীদের অনেকের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।


যদিও প্রজ্ঞাপন জারি নিয়ে হতাশ হওয়ার কারণ নেই বলে মনে করছেন সাবেক আমলারা। সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, মন্ত্রিসভা অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের জন্য যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তাতে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি অনেক সময় মাসও লেগে যেতে পারে। তবে এবার দীর্ঘদিন পর বেতন কাঠামো ঘোষণার কারণে বিষয়টি নিয়ে হতাশা তৈরি হয়েছে।


মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া যাচাই-বাছাইয়ের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে দুই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খসড়াটি এখনো আইন মন্ত্রণালয়ে যায়নি। এটি অর্থ মন্ত্রণালয়েই রয়েছে।


আইন মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত সপ্তাহে তাঁরা শুনেছিলেন, দুই-এক দিনের মধ্যে অনুমোদিত বেতন কাঠামোর খসড়া আইনি যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হবে। কিন্তু এখনো সেটি তাঁদের হাতে পৌঁছায়নি।


অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি খসড়া আটকে রাখার মতো নয়। গেজেট প্রকাশের আগে যে ধরনের প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন, সেগুলো মেনে কাজ করতে সময় লাগছে।


মূলত সামরিক-বেসামরিক বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনাসহ প্রজ্ঞাপনের খসড়া তৈরির কাজ চলছে বলে জানা গেছে।


ওই কর্মকর্তা বলেন, দ্রুতই খসড়াটি আইনি যাচাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।


এর আগে সর্বশেষ ২০১৫ সালে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। এরপর প্রায় সাড়ে তিন মাস পর ১৫ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়।


কর্মকর্তারা জানান, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন প্রকাশের জন্য প্রশাসনিক ও আইনগত বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। প্রথম ধাপে অর্থ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনের বিস্তারিত খসড়া প্রস্তুত করে।


সাবেক সচিব ড. মো. আনোয়ার উল্ল্যাহ বলেন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য পাঠানো খসড়ায় মূলত কোন গ্রেডে কত টাকা বেতন-ভাতা বাড়ানো হবে, তার প্রস্তাব থাকে। অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে কীভাবে তা বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা যুক্ত করা হয়।


এতে জনপ্রশাসনের পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, পুলিশ, সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা কীভাবে কার্যকর হবে, তারও বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়।


তিনি বলেন, আগে থেকে প্রস্তুতি না থাকলে এসব কাজ শেষ করতে বেশ সময় লেগে যেতে পারে।


প্রজ্ঞাপনের খসড়া প্রস্তুত হওয়ার পর তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে সংবিধান ও চাকরি-সংক্রান্ত আইনের সঙ্গে কোনো অসঙ্গতি বা বিরোধ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হয়। পাশাপাশি খসড়ায় ব্যবহৃত শব্দ, বাক্য ও আইনি পরিভাষায় কোনো অস্পষ্টতা বা দ্ব্যর্থবোধকতা আছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা হয়।


শেয়ার করুন