২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার, ০৮:০৯:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রাজশাহীতে মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াত
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৫-০৯-২০২৬
রাজশাহীতে মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াত

রাজশাহীতে রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুর ও পদ্মা সরকারি কলেজে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের ছাত্র সংগঠন। পালটাপালটি হুমকি, বিক্ষোভ-মিছিল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনাকর বক্তব্যে নগরীতে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


রোববার রাতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায় জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করে বিএনপি নেতারা বক্তব্য দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর মধ্যে মঙ্গলবার এক সমাবেশে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ‘কুকুরের মতো পিটিয়ে’ রাজশাহীছাড়া করার হুমকি দেন মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির।


এর জবাবে বুধবার বিক্ষোভ সমাবেশ করে মহানগর ছাত্রদল। সেখানে শিবিরের ওই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে সংগঠনটির নেতারা পাল্টা প্রতিরোধের ঘোষণা দেন।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা ভাঙচুরের সময় মহানগর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন।


বিএনপির অভিযোগ, রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারকে সামনে রেখে জামায়াত-শিবিরের নেতারা ওই পরিস্থিতি তৈরি করেছেন এবং শিবিরের নেতাকর্মীরা ভাঙচুরে সরাসরি জড়িত ছিলেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে জামায়াত।


স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনার পর মঙ্গলবার ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে রাজশাহী পদ্মা সরকারি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের পাঁচজন আহত হন। ওই ঘটনার পর রাতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে মহানগর ছাত্রশিবির।


সমাবেশে মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির বলেন, ‘আমরা ছাত্রদলের বন্ধুদের বলছি, আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে ছাত্রদলের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে কুকুরের মতো পিটিয়ে রাজশাহীছাড়া করব। আমাদের ওপর হামলা হলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।’


একই সমাবেশে মহানগর শিবিরের সাবেক সভাপতি খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘যেই চোখ দিয়ে ছাত্রশিবিরের দিকে খারাপ চোখে তাকাবে, সেই চোখ উপড়ে ফেলা হবে। গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করলে হাত গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। পেশিশক্তি দিয়ে শিবিরকে দমানো যাবে না। প্রতিটি আক্রমণের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।’


শিবির নেতাদের এসব বক্তব্যের প্রতিবাদে বুধবার বিকেলে বিক্ষোভ সমাবেশ করে মহানগর ছাত্রদল। সমাবেশে মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব এমদাদুল হক ইমরান নাজিরকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ইমরান নাজির সাহেব, আপনার বাসা কুমিল্লা। রাজশাহীতে আমাদের জন্ম, পৈতৃক ভিটার ওপর বসবাস করি। ছাত্রদল রাজপথে নামলে ছাত্রশিবির কেন, ওই ‘রাজাকারের সংগঠন’ রাজশাহীতে পা ফেলারও জায়গা পাবে না। রাজশাহীতে ধ্বংসযজ্ঞ চালালে আপনাকে কুমিল্লার বাস ধরিয়ে দেওয়া হবে।’


মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি অভিযোগ করেন, ‘স্টেশনে হামলার ঘটনায় শিবির প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থেকে রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চাইছে।’


একই দিন বিকেলে মহানগর বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘ছাত্রদল আমাদের আবেগের জায়গা। তাদের নিয়ে শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্য দিয়ে রাজশাহীতে অবস্থান করার মতো এত বড় স্পর্ধা দেখাবেন না। রাজশাহীর শান্তি বিনষ্টের যে কোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।’


তবে রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুর এবং অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ-সদস্য ও রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমির ড. কেরামত আলী। তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করতে চাই না। তবে উত্তেজনাকর কথা বিএনপি বা ছাত্রদল নেতারাই বেশি বলছেন।’


শিবির নেতার হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ছাত্রশিবির নেতার ভাষাটা ঠিক হয়নি। তাদের মার্জিত বক্তব্য রাখা উচিত।’


রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের বিষয়ে কেরামত আলী বলেন, ‘আম্মার আগাগোড়াই বেয়াড়া টাইপের কাজ করেছেন। তার উগ্র আচরণ আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি শিবিরের ব্যানারের বাইরে জিএস নির্বাচিত হয়েছেন, তাই তার সব কাজ শিবিরকে মেনে নিতে হবে- এমনটা ঠিক নয়।’


সার্বিক বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) সৈয়দ শাহীন শওকত বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে যে তাণ্ডব চালানো হলো, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। শিক্ষার্থীদের সামনের দিকে ঠেলে দিয়ে জামায়াত-শিবির ঘৃণ্য রাজনীতির খেলা খেলছে এবং সরকারকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে। তারা বিভিন্নভাবে বিএনপিকে উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’


এদিকে পালটাপালটি কর্মসূচি ও নেতাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে। সূত্র- যুগান্তর

শেয়ার করুন