কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি রোববার (২৩ মার্চ) দেশটির গভর্নর জেনারেলকে সংসদ ভেঙে দিয়ে ফেডারেল নির্বাচনের আহ্বান জানাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। দুটি সরকারি সূত্রের বরাতে সিএনএন এ খবর জানিয়েছে।
উভয় সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, এটি যদি হয়, তাহলে কানাডিয়ানরা সম্ভবত ২৮ এপ্রিল ভোটগ্রহণে যাবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মতো কানাডার নির্বাচন প্রতি চার বছর অন্তর একটি নির্দিষ্ট তারিখে নির্ধারিত হয় না। দেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে গভর্নর জেনারেল একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করতে পারেন।
লিবারেল পার্টির ভোটগ্রহণে মন্দা এবং মন্ত্রিসভায় অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের মধ্যে জানুয়ারিতে জাস্টিন ট্রুডো পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর কার্নি দলের নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, পিয়েরে পোইলিভরের নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভদের কাছে লিবারেলরা ভারী পরাজয়ের পথে রয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের মধ্যে জরিপে দলটির ভাগ্যের উন্নতি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার কানাডাকে অবৈধ অভিবাসন এবং সীমান্ত পেরিয়ে মাদক প্রবাহের জন্য দোষারোপ করেছেন। তিনি কানাডাকে ৫১তম রাজ্যে পরিণত করার হুমকি দিয়েছেন এবং কানাডিয়ান আমদানির ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছেন।
৯ মার্চ কানাডার লিবারেল পার্টির নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম বক্তব্যে কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার কথা উল্লেখ করে বলেন, তার সরকার নির্ভরযোগ্য বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরি করবে।
ব্যাংক অফ কানাডা এবং ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের প্রাক্তন গভর্নর কার্নি পূর্বে কোনো নির্বাচিত পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন না। তবে এখন তিনি ফেডারেল নির্বাচনের মাধ্যমে লিবারেলদের নেতৃত্ব দেবেন। কয়েক দশকের দীর্ঘ কর্মজীবনে কার্নি বড় বড় বৈশ্বিক সংকট এবং উত্থানের সময়কালে সরকারগুলোকে অঅর্থনৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছেন।
গত মাসে কানাডার ওপর ২৫ শতাংশ মার্কিন শুল্ক ঘোষণার পর থেকে কার্নি প্রতিশোধমূলক শুল্কের পক্ষে কথা বলে আসছেন। কানাডাকে ৫১তম মার্কিন রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ট্রাম্পের প্রস্তাবকেও কার্নি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, আমেরিকা কানাডা নয়।