০৫ এপ্রিল ২০২৫, শনিবার, ০৫:০১:৪৮ পূর্বাহ্ন
ঈদ বিয়ে শাদী ও বিনোদন ঘিরে রাজশাহীর অর্থনীতি চাঙ্গা
স্টাফ রিপোর্টার :
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৪-০৪-২০২৫
ঈদ বিয়ে শাদী ও বিনোদন ঘিরে রাজশাহীর অর্থনীতি চাঙ্গা

শেষ মুহুর্তের কেনাকাটার মধ্যদিয়ে ঈদ বাজার জমে ওঠায় খুশি ছিল ব্যবসায়ীরা। কাপড়, জুতো, স্যান্ডেল, কসমেটিক্স, তৈষজপত্র, টুপি, আতর, সুরমা আর ঈদের দিনের বিশেষ খাবার পায়েস পোলাও খিচুড়ির সামগ্রীর বাজার। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দাম নিয়ে কিছু কথা থাকলেও সাধ আর সাধ্যের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার চেষ্টার কমতি ছিলনা। ফলে সর্বক্ষেত্রে ব্যবসা হয়েছে ভাল। ঈদের বেতন বোনাস আর জাকাত ফেতরার টাকা দিয়ে যার যার মত করে বাজার সদায় করেছে। বিশেষ করে ঈদ পণ্যের কম দাম ও সরবরাহ ভাল ছিল। পোলাওয়ের চাল, চিনি গত বছরের চেয়ে বেশ কম দাম ছিল। তবে গোশতের বাজার দাপট দেখিয়েছে।


বিপনী বিতান থেকে শুরু করে রাস্তার ফুটপাত ব্যবসায়ীরা প্রত্যাশিত ব্যবসা করেছেন। শুরুর দিকে ধারণা করা হয়েছিল এবার ঈদ বাজার গতবারের চেয়ে ত্রিশ শতাংশ কম হবে। গত বছর সাতশো কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছিল। শেষ মূহুর্তের কেনাকাটায় তা পার হয়ে গেছে। কাপড় চোপড়ের দাম বেশি থাকলেও অন্যক্ষেত্রে ছিল বেশ সহনীয়। সাহেব বাজার আর সিল্ক পাড়ার ব্যবসায়ীরা দিন শেষে বলছেন আলহামদুলিল্লাহ। বেচাকেনা মন্দ হয়নি। ফলে অর্থনীতির উপর ভাল প্রভাব পড়েছে। বেচাকেনা শুধু শহর কেন্দ্রীক নয় একেবারে তৃনমূল পর্যায় পর্যন্ত হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে অনেক মার্কেট গড়ে উঠেছে। সেখানেও বেচা বিক্রি হয়েছে ভাল। লম্বা ছুটির কারণে কর্মজীবী মানুষ আগেভাগেই নিজ গ্রামে ফিরেছে। স্বজনদের জন্য সেখানেও কেনাকাটা করেছে। আর সব কিছুতো শহর থেকে বহন করে নেয়া যায়নি। তাহলে ল্যাগেজ অনেক ভারী হয়ে যাবে। তাই অনেক কিছু গ্রামে ফিরে কেনা। গ্রামের টাটকা শাকসবজি মাছ মুরগী আর গরুর গোশতের জন্য এবার অনেকে আস্ত গরু কিনে ভাগাভাগি করে নিয়েছে। এতে দাম কম পড়েছে। আবার এসব করতে গিয়ে ছিল অন্যরকম আনন্দ। সব মিলিয়ে এবারের ঈদ শহর গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।


রমজানের কারণে বিনোদনকেন্দ্রগুলো প্রায় বন্ধ ছিল। ফলে এসব স্থান কেন্দ্রীক বাদাম চানাচুর ফুচকা চটপটি পেয়ারা ফেরি করা বিক্রেতার অলস দিন পার করেছে। এখন মানুষ আসতে থাকায় স্পটগুলো যেমন প্রাণ ফিরেছে তেমনি তাদের জীবন চাকা তেমন সচল হয়েছে। ঈদের পরদিন থেকে শুরু হয়েছে বিয়ে শাদীর অনুষ্ঠান। বিক্রি বেড়েছে জামদানী শাড়ি, পাঞ্জাবি, শেরওয়ানি। গয়নার বাজারেও হাওয়া লেগেছে। বিয়ের বাজারও জমজমাট। সব বছরই ঈদের পর ব্যস্ত হয়ে পড়ে কমিউিনিটি সেন্টারগুলো। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। কারণ ঈদে স্বজনরা আসবে বলে দিনক্ষন ঠিক করে রাখে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সপ্তাহ খানেকের জন্য দিনরাত খালি নেই। আগে সব বুকড হয়ে গেছে। গ্রামেও ডেকোরেটরা ভীষণ ব্যস্ত। বিয়ের গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান থেকে বর কনের বাড়িতে যাতায়াত সবক্ষেত্রে ব্যস্ততা। বেড়েছে মাইক্রোবাসের চাহিদা। ওরা চাহিদা বুঝে ভাড়া বাড়িয়েছে। বরের জন্য চাই কার। আর সেই কার ফুলদিয়ে না সাজালে কি চলে। তাছাড়া বাসর ঘরতো সাজানো চায়। তাই বেড়েছে ফুলের কদর। তারাও খুশি। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের লোকরা বেশ ব্যস্ত। কমিউনিটি সেন্টার গুলোতে বর কনের স্টেজ সাজানো নিয়ে তারাও ব্যস্ত। বিয়েতো একেবার হবে। তা স্মরণীয় ও দৃষ্টিনন্দন করতে উৎসাহের কমতি নেই। এসব আয়োজনকে ধরে রাখার জন্য ভিডিও ও ফটোগ্রাফারদের কদর বেড়েছে। বিয়েশাদী মানে উভয়পক্ষে খানাপিনার আয়োজন। পোলাও রোস্ট থেকে কাচ্চি যুক্ত হয়েছে মেনুতে। স্বাভাবিক ভাবে চাহিদা বেড়েছে গরু খাসি মুরগীর গোশতের। সাথে রয়েছে দই মিষ্টি আর শেষে পান মশল্লা। গ্রামে গ্রামে প্যান্ডেল টানিয়ে বিয়ের আয়োজন করা হয়। বিয়ে শাদীকে ঘিরে সব মিলিয়ে এবারে ঈদ পালিত হলো ভিন্ন আমেজে। চারিদিকে উৎসাহ উদ্দিপনা। বয়স্করা বলছেন এমন আনন্দ উৎসব গত বিশ বছরেও দেখা যায়নি।


 


শেয়ার করুন