ভোরে ঘুমের ঘোরে মশার ভোঁ ভোঁ কিংবা সন্ধ্যায় জানালা খোলা মাত্র হানা দেওয়া ঝাঁকে ঝাঁকে মশা এ যেন আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। শুধু বিরক্তি নয়, এ মশার কামড়েই ছড়ায় ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়ার মতো ভয়াবহ রোগ। মশা তাড়াতে এতদিন ব্যবহার করা হতো ধূপ, স্প্রে কিংবা বৈদ্যুতিক র্যাকেট। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে লেজার!
চীনের তৈরি নতুন ডিভাইস ‘ফোটন ম্যাট্রিক্স’ মশাকে শনাক্ত করে সরাসরি লেজার দিয়ে নিধন করতে পারে। এটি এক ধরনের অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট সিস্টেমের অনুকরণে তৈরি। ডিভাইসটি লাইডার (LiDAR) প্রযুক্তি ব্যবহার করে, মাত্র তিন মিলিসেকেন্ডে উড়ন্ত মশার গতি, আকার ও অবস্থান শনাক্ত করতে পারে এবং গ্যালভোনোমিটার লেজারের সাহায্যে তাৎক্ষণিকভাবে মশাটিকে মেরে ফেলে। ফোটন ম্যাট্রিক্স দুটি সংস্করণে আসছে। ১. বেসিক ২. প্রো। বেসিক মডেল তিন মিটার এবং প্রো মডেল ছয় মিটার দূরত্ব পর্যন্ত কভার করে। প্রতিটি সর্বোচ্চ প্রতি সেকেন্ডে ৩০টি মশা নিধনে সক্ষম। এমনকি অন্ধকার ঘরেও কাজ করে এটি। তবে সীমাবদ্ধতাও আছে যন্ত্রটির। প্রতি সেকেন্ডে ১ মিটার গতির বেশি গতিসম্পন্ন পোকা শনাক্ত করতে পারে না।
মানুষ ও পোষা প্রাণীর নিরাপত্তার জন্য এতে মিলিমিটার-ওয়েভ রাডার ব্যবহার করা হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে সাধারণ ওয়াল সকেট কিংবা পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার করা যায়। একবার চার্জে ৮১৬ ঘণ্টা চলতে পারে ডিভাইসটি। বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ২০০৭ সালে শুরু হওয়া এ ধারণা আজ বাস্তবরূপ পেতে যাচ্ছে। ইন্ডিগোগো প্ল্যাটফর্মে ডিভাইসটি তহবিল সংগ্রহ করছে এবং প্রি-অর্ডারে বেসিক সংস্করণ মিলবে ৪৬৮ ডলারে, প্রো-সংস্করণ ৬২৯ ডলারে। খুচরা বাজারে দাম আরও বাড়তে পারে। তবে নিরাপত্তা মানদণ্ড ও কার্যকারিতা নিয়ে এখনো কিছু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তাই কেনার আগে একটু সাবধানতা অবলম্বনই শ্রেয়।

