১৩ জানুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার, ১১:১৯:৩৩ অপরাহ্ন
১৮০ দিন অনুপস্থিত থেকে চাকরিচ্যুত কর পরিদর্শক
স্টাফ রিপোর্টার :
  • আপডেট করা হয়েছে : ১১-০১-২০২৬
১৮০ দিন অনুপস্থিত থেকে চাকরিচ্যুত কর পরিদর্শক

অফিসে টানা ও পর্যায়ক্রমে মোট ১৮০ দিন বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকার দায়ে চাকরি হারালেন একেএম আসাদুজ্জামান নূর নামের এক কর পরিদর্শক। রোববার (১১ জানুয়ারি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তাকে চাকরিচ্যুত করেছে।

এ বিষয়ে এনবিআরের সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) জি এম আবুল কালাম কায়কোবাদ স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, একেএম আসাদুজ্জামান নূর ২০১৭ সালের ২ এপ্রিল কর পরিদর্শক হিসেবে পদোন্নতি পান। একই বছরের ১৮ এপ্রিল তিনি বরিশাল কর অঞ্চলের পরিদর্শী রেঞ্জ-৪–এ যোগদান করেন এবং তাকে সার্কেল-১৬ (লালমোহন)–এ পদায়ন করা হয়। তবে যোগদানের পর থেকেই তিনি নিয়মিতভাবে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকতে শুরু করেন।

হাজিরা খাতা ও নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত তিনি মোট ৫৪ দিন বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে সার্কেল কর্তৃপক্ষ কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করলে তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে বরিশাল কর কমিশনারের কার্যালয়ে হাজির হয়ে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই তাকে প্রথমবারের মতো লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, সতর্ক করার পরও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ২০২৩ সালের ১৩ আগস্ট তাকে পুনরায় পরিদর্শী রেঞ্জ-৪–এ বদলি করা হলেও সেখানে গিয়ে তিনি আরও বেশি সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। ওই কর্মস্থলে ২০২৩ সালের ২৪ আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তিনি মোট ১২৬ দিন বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত ছিলেন।

এ কারণে পরিদর্শী রেঞ্জ-৪–এর যুগ্ম কমিশনার তার বিরুদ্ধে আবারও কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন। তবে সেখানেও তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হন। দুই কর্মস্থল মিলিয়ে মোট ১৮০ দিন অনুপস্থিত থাকায় তার আচরণে অফিসের শৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং রাজস্ব আহরণ কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি বরিশাল কর অঞ্চলের কমিশনার তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে এনবিআরে চিঠি পাঠান। পরে ১২ ফেব্রুয়ারি তাকে পুনরায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি ২০ ফেব্রুয়ারি জবাব দিলেও তা সন্তোষজনক হয়নি।

এরপর বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী প্রস্তুত করা হয়। কিন্তু সেগুলোর জবাব দিতেও তিনি সশরীরে হাজির হননি। পরবর্তী সময়ে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হলে তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনীত ‘অসদাচরণ’ ও ‘ডিজারশন’-এর অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়।

সবশেষে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৪(৩)(গ) ধারা অনুযায়ী একেএম আসাদুজ্জামান নূরকে ২০২৪ সালের ৪ জানুয়ারি থেকে চাকরি হতে অপসারণ বা চাকরিচ্যুতির দণ্ড প্রদান করা হয়।

শেয়ার করুন