যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে সম্পৃক্ত থাকতে চান।
গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।
আট মিনিটের এক ফোনালাপভিত্তিক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন। তবে এই সম্ভাবনাকে তিনি গ্রহণযোগ্য মনে করেন না।
ট্রাম্পের ভাষায়, তারা সময় নষ্ট করছে। খামেনির ছেলে খুবই দুর্বল। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমাকে অবশ্যই সম্পৃক্ত থাকতে হবে, যেমনটি আমি ভেনেজুয়েলায় ডেলসি রদ্রিগেজের ক্ষেত্রে করেছি।
তিনি আরও বলেন, এমন কোনো নতুন নেতা তিনি মেনে নেবেন না যিনি খামেনির নীতিকে অনুসরণ করবেন। তার মতে, সেই ধরনের নেতৃত্ব থাকলে পাঁচ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও যুদ্ধে জড়াতে হতে পারে।
গত কয়েক দিন ধরে ইরানে নতুন সর্বোচ্চ নেতার নাম ঘোষণার বিষয়টি স্থগিত রয়েছে। তবে দেশটির কয়েকজন রাজনীতিকের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, ঘোষণা শিগগিরই আসতে পারে।
৫৬ বছর বয়সী মুজতবা খামেনি একজন কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতা হিসেবে পরিচিত এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে তিনি কখনও কোনো সরকারি পদে দায়িত্ব পালন করেননি।
এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের লক্ষ্য সরকার পরিবর্তন নয়; বরং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, পারমাণবিক কর্মসূচি ও নৌ শক্তিকে দুর্বল করা।
ট্রাম্প ইরানের পরিস্থিতির সঙ্গে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের তুলনা করেন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপের পর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ক্ষমতা নেন, যখন সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী আটক করে।
ট্রাম্পের দাবি, ওই অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা থেকে ৮০ মিলিয়নের বেশি ব্যারেল তেল পেয়েছে।

