২৬ মার্চ ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৯:১২:৩২ অপরাহ্ন
এবার বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি ইরানের
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৬-০৩-২০২৬
এবার বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি ইরানের

হরমুজের পর এবার আরও একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বরাতে ফার্স নিউজ ও তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।



মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি ইরানের মূল ভূখণ্ড বা কৌশলগত খার্গ দ্বীপসহ অন্যান্য দ্বীপে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করে, তবে তার পাল্টা জবাব হিসেবে লোহিত সাগরের এই প্রবেশপথটি বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে তেহরান।


আইআরজিসির এক উচ্চপদস্থ সেনাকমান্ডার জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষ যদি পারস্য উপসাগর বা ওমান সাগরে উসকানিমূলক তৎপরতা বৃদ্ধি করে তবে আইআরজিসি বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নতুন ফ্রন্ট খুলে দেবে। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযোগকারী এই সংকীর্ণ জলপথটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ১২ শতাংশ এবং সুয়েজ অভিমুখে যাওয়া বিশাল এক বাণিজ্যিক অংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই পথে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা মধ্যপ্রাচ্য ছাপিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


বাব আল-মান্দেব প্রণালিটি ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত হলেও সেখানে ইরানের প্রভাব অত্যন্ত প্রবল। ইয়েমেনের এই অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণ করে ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি বিদ্রোহীরা।


আইআরজিসি জানিয়েছে, হুথি নেতাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং তারা ইরানকে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীকে আরও কঠোরভাবে দমনের অংশ হিসেবেই এই প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখছে ইরান। হুথি বা আনসারুল্লাহ আন্দোলন এই জলপথে একটি ‘হুমকি’ তৈরিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে দাবি করেছে তেহরানের সামরিক সূত্রগুলো।


এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন, তেহরানের কাছে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে যে কোনো একটি আঞ্চলিক রাষ্ট্রের সহায়তায় শত্রুরা ইরানের খার্গ দ্বীপ দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করেই বলেন, ইরানি বাহিনী শত্রুদের প্রতিটি পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যদি কোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবে সংশ্লিষ্ট সেই আঞ্চলিক রাষ্ট্রের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে নিরবচ্ছিন্ন ও কঠোর হামলা চালানো হবে।


মূলত ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে হুথিরা লোহিত সাগরে জাহাজ আক্রমণ শুরু করার পর থেকেই এই অঞ্চলে নৌ-চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে, যা এখন ইরানের নতুন হুমকিতে আরও বড় অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।


শেয়ার করুন