ইরানের মাশহাদ বিমানবন্দরে সোমবার (৩০ মার্চ) পরিচালিত এক মার্কিন বিমান হামলায় মাহান এয়ারের একটি যাত্রীবাহী বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
ইরানি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই বিমানটি চলতি সপ্তাহেই ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে যাওয়ার কথা ছিল। বিমানটির মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের সাধারণ মানুষের জন্য ভারত থেকে অতি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও মানবিক সহায়তা সামগ্রী সংগ্রহ করে নিয়ে আসা। তবে মাশহাদ বিমানবন্দরে এই হামলার ফলে সেই মিশনটি এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া (পিটিআই) তাদের প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। যদিও মার্কিন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই সুনির্দিষ্ট হামলার বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার কোনোটিই করা হয়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এই বিমানটি আগামী ১ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে অবতরণ করার কথা ছিল। গত ১৮ মার্চ ভারত সরকার ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে দেশটিতে চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রথম চালান পাঠিয়েছিল। ভারতের এই মানবিক সহায়তার জন্য নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস দেশটির জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিল।
বর্তমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানে তীব্র ওষুধ সংকট দেখা দেওয়ায় এই সহায়তা মিশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মাহান এয়ার মূলত একটি বেসরকারি ইরানি বিমান সংস্থা, যা মধ্যপ্রাচ্যসহ এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে মার্কিন-ইসরায়েলি জোট। ইরানের কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, মাশহাদ বিমানবন্দরে এই হামলার ফলে বিমানটির কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে যা বর্তমানে উড়াল দেওয়ার অনুপযুক্ত।
মানবিক সহায়তা সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত একটি যানের ওপর এমন হামলাকে তেহরান আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। বিমানটি মেরামত করে পুনরায় মিশনে পাঠানো সম্ভব কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ভারত ও ইরানের মধ্যকার এই ত্রাণ বিনিময় প্রক্রিয়াটি চলমান যুদ্ধের কারণে বারবার বিঘ্নিত হচ্ছে। ভারতের পক্ষ থেকে ওষুধ পাঠানোর বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা হলেও আঞ্চলিক রাজনীতির উত্তাপ সেই প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিচ্ছে। যদি বিমানটি নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে না পারে, তবে ইরানের চিকিৎসা সেবায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মার্কিন প্রশাসন মাশহাদ বিমানবন্দরের হামলা নিয়ে এখনো নিরব থাকলেও ইরানের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।

